নেত্রকোণার সীমান্ত এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চোরাচালান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোণায় ডিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। উক্ত মালামালের মধ্যে ভারতীয় ৪০ বস্তা ফুচকা ও ২৬ বস্তা জিরা ছিল। এ সময় মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান, ভ্যানচালক ও তার হেলপারকে আটক করা হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোণা ডিবি পুলিশ গোপন সুত্রে তথ্য পেয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে।
জেলার কলমাকান্দা থেকে পিকআপ ভ্যানে করে চোরাকারবারিরা এইসব পন্য নেত্রকোণা সদরে আনার পর ডিবি পুলিশের একটি টিম শহরের রাজুর বাজার এলাকা থেকে ধাওয়া করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পিকআপ ভ্যান আটকের পর এই সব মালামালের তথ্য পাওয়া যায়। জব্দকৃত মালামাল ডিবি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
নেত্রকোণা ডিবি পুলিশের এস আই জলিল, এস আই সৈকত, এ এস আই আবুল কালামসহ আরও চারজন পুলিশ সদস্য এ অভিযানে অংশ গ্রহণ করে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় চোরাকারবারিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দাকে চোরাচালানের প্রধান কেন্দ্র বা 'আঁতুড়ঘর' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চোরাকারবারির দেওয়া তথ্যমতে, এই অবৈধ কারবার চলে সুনিপুণ পরিকল্পনায়, মালামাল যে এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে যে সব থানা এলাকা অতিক্রম করতে হয়, প্রতিটি পয়েন্টে সংশ্লিষ্ট থানাকে সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা প্রদান করা হয়।
টাকা পরিশোধের পর পুলিশি ভাষায় যাকে 'লাইন' বলা হয়, তা সচল হয়। একবার লাইন ক্লিয়ার থাকলে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার অনায়াসেই চোরাই পণ্যের চালান নেওয়া সম্ভব হয়।
আরটিভি/এমআই



