ময়মনসিংহের ভালুকায় জ্বালানি তেলের সংকটে ঝুঁকির মুখে শিল্প-কলকারখানাগুলো। সরবরাহ ঘাটতি ও বৈশ্বিক আমদানির সমস্যার কারণে উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন মিলছে না। গত কয়েকদিন ধরে অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে এলাকার বিশাল শিল্পাঞ্চল ও কলকারখানাগুলো বড় ধরনের উৎপাদন সংকটের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকেরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক চালককে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক জানান, তিনটি পাম্প ঘুরেও ডিজেল পাইনি, গাড়ি না চললে ফ্যাক্টরির মাল ডেলিভারি দেব কীভাবে?
ভালুকা কয়েকশ কলকারখানা রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলতে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা এবং জেনারেটর চালাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
পি. এ. নিট কম্পোজিট লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার আহমেদ জাহান রুমি জানান, গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার ডিজেল সংকটে জেনারেটর চালাতেও পারছেন না। এতে যেমন উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি মালামাল পরিবহনেও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
নোমান কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার রেদোয়ানুল আহমেদ জানান, এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কারখানার মালামাল পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসেন জানান, ভালুকা শিল্পাঞ্চলের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে এবং অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট রোধে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/টিআর/এমএম



