সিলেট ও হবিগঞ্জ অঞ্চলে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পাচার প্রতিরোধে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের সরকারি প্রণোদনা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে স্থানীয় ‘পাখি প্রেমিক সোসাইটি’। সংগঠনের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা অভিযোগটি বর্তমানে তদন্ত করছেন মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাসেম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) স্বেচ্ছাসেবী বন্যপ্রাণী সংগঠনের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সামনে তদন্ত কার্যক্রমে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত শুরু ও শেষ করার দাবি জানান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে তাদের সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন অন্তত শতাধিক বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে এবং ১০ থেকে ১২টি মামলাও হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কাজ করেও কোনো স্বেচ্ছাসেবী সরকারি প্রণোদনা পাননি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা উদ্ধারকারীদের নাম গোপন রেখে বা নাম ভাঙিয়ে প্রণোদনার অর্থ উত্তোলন করেছেন। অথচ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত সাপ, পাখি, কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়ে আসছেন। পাখি প্রেমিক সোসাইটির নেতারা প্রণোদনা বিতরণের স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ, অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, গত পাঁচ বছরে কারা এই প্রণোদনা পেয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে ইউএনও অফিসের তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব মাধবপুরের কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকারের ওপর দেওয়া হলেও আমরা দ্রুত তদন্ত শুরুর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ইউএনও অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, জেলা প্রশাসন যদি আমাদের কাছে তথ্য চায় বা চিঠি দেয়, আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা করব। পাশাপাশি কোনো অনিয়মের বিষয় থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস




