পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ঐতিহাসিক উদ্যোগকে অনুসরণ করে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুন:খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মেহেরপুরের বলিয়ারপুর গ্রামের কাজলা নদীর সংযোগস্থলে জিয়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কারণে দেশে এক ধরনের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য বিদেশে রপ্তানিও করা হতো। দেশে কর্মসংস্থান হয়েছিল অনেক বেকার যুবকের। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই কর্মসূচির আওতায় আজ জিয়া খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, সারা দেশে খাল পুনঃখননর ফলে নদীর পাড়গুলোতে গাছ লাগানো হচ্ছে, যা জলবায়ু ও পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ বাড়লে নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন—আমরা কোনো মেগা প্রকল্প করব না। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে গ্রামের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব। যার ফলে খাল খনন কর্মসূচি নতুন এক বিপ্লবে পরিণত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১.১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অঞ্চল ভট্টাচার্য।
এদিকে, বিকেল সাড়ে ৫টায় পানিসম্পদমন্ত্রী খাল খনন কাজের উদ্বোধনের পর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মেহেরপুরে আসার আগে চুয়াডাঙ্গার একটি খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন তিনি।
আরটিভি/টিআর




