বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ (জলকেলি উৎসব) উপলক্ষে পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই চলছে উৎসব উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি। মারমা সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদের আনাচে-কানাচে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয় বরং এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে জলকেলির মধ্য দিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার প্রতীকী আয়োজনই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। উৎসব উদযাপন পরিষদের পুরনো ও নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের কারণে প্রস্তুতি কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
তবে বৃহস্পতিবার নবাগত জেলা প্রশাসক বোমাং রাজা প্রকৌশলী উচ প্রু চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করলে বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই সুষ্ঠু সুন্দরভাবে উদযাপন করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বোমাং রাজার সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে মারমা সম্প্রদায়ের মতে, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়,এটি এখন বান্দরবানের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একসাথে মিলিত হয়ে উদযাপন করে এই উৎসব, যা সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। পাহাড়ের নীরব প্রকৃতির মাঝে সাংগ্রাই যেন এক রঙিন জাগরণ। পুরোনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এই উৎসব বারবার মনে করিয়ে দেয় সংস্কৃতির বন্ধনই মানুষকে একত্রে বেঁধে রাখে।
অপরদিকে জানা গেছে,বান্দরবান জেলা জুড়ে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হবে পানি মৈত্রীবর্ষণ বা জলকেলি উৎসব। শহর থেকে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই পানি খেলার উৎসব। একই সাথে গ্রাম বা মহল্লায় রাতে পিঠা তৈরি, বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা ও সাঙ্গু নদীতে চলবে বুদ্ধ স্নান। যা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এই কার্যক্রম।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে পানি মৈত্রীবর্ষণ খেলার জন্য বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি হয়েছে নৌকা ও বিশেষ মঞ্চ। উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণিল শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য,এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় মারমা বাজারগুলোতেও উৎসবের ছোঁয়া ও বেচাকেনার ধুম পড়েছে।
বিক্রি হচ্ছে হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাক,এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প। শুধু তাই নয়, বৌদ্ধ বিহারে পরিষ্কার-পরি”ছন্নতার পাশাপাশি সাঙ্গু নদীতে নতুন বছরকে বরণ করতে নারী-পুরুষ মিলে চলছে কাপড় ধোয়ার কর্মযজ্ঞ। এতে অংশ নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরাও।
জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাক ও বডি অন ক্যামেরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানজুড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ড্রোনের ব্যবহার থাকবে। সামাজিক এই উৎসব নির্বিঘ্নে আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
আরটিভি/এসআর



