পাবনার চাটমোহর উপজেলার বড়াল নদীর তীরে বোঁথড় গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ‘চড়ক পূজা’ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ২২ চৈত্র থেকে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও তিন দিনব্যাপী মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামটি হয়ে উঠে হিন্দুধর্মের তীর্থ ক্ষেত্রের কেন্দ্র।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে আগামী বুধবার। এর আগে পুরো বৈশাখ মাসব্যাপী চলতো মেলা।
জানা গেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে চড়ক মেলা চলছে হাজার বছর ধরে। সিন্ধু সভ্যতা থেকেই বোঁথড়ের এই চড়ক পূজা চলছে একটি চড়ক গাছকে কেন্দ্র করে।
এক সময় মেলার দেড়-দুমাস আগেই বড়াল নদীর পাড়ের চাটমোহর উপজেলার বোঁথড় গ্রামটিতে পড়ে যেত সাজ সাজ রব। বহু দূর-দূরান্ত থেকে দোকানীরা এসে তাদের পসরা সাজিয়ে বসতো। যাত্রা, সার্কাস, নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শন, ঘোড়াদোলা ও পুতুল নাচে এক উৎসবে ভরে উঠতো গোটা চাটমোহর অঞ্চল। মেলার সেই জৌলুস আজ আর নেই, নেই জাঁকজমকও। তবুও আছে চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর, বিগ্রহ মন্দির। তাই বছর শেষের এ মাসটিতে এখনো মেলা বসে তিনদিন ব্যাপি। অভাব দারিদ্রতা পশ্চাৎপদ বিল পাড়ের গ্রামীণ মানুষের একঘেঁয়ে নিরানন্দ জীবনে সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা বৈচিত্রের স্বাদ আনে।
ইতিহাস থেকে জানা গেছে, শক রাজাদের আমলে হাজার বছর আগে এটি শুরু হয়। সে মতে শুদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মুক্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভাব হয় মহাদেবের। সে সময়টিতে বর্ণ হিন্দু দ্বারা নিগৃহীত হতো নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়। এই পূজা বা মেলা উপলক্ষে সিংহল, বার্মা ও ভারত থেকে ৪৭ সালের আগে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ আসতো বোঁথড় গ্রামে। ব্রক্ষমণ্যবাদের বিলোপ ঘটলে বর্ণ হিন্দুরাও এতে সম্পুক্ত হয়ে পড়ে, রূপান্তুরিত হয় সর্বজনীন জাতের পূজায়। মূলত এ মেলা (পূজার) প্রচলন হয় বান রাজার আমল থেকে।
দোলবেদীতলা মহাদেবের আসনে তোলা হয় ২৮ চৈত্র, ৭ বৈশাখ নামানো হয়। এ সময় ১৩ জন বৃদ্ধাকে ৬ দিন উপোস করতে হয়। ১২৫২ বঙ্গাব্দে এক ভুমিকম্পে বিধ্বস্ত হয় বোঁথড় শিবমন্দির। সম্প্রতি মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে মন্দির থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের শিবমূর্তি চুরি হলে ১৯৯০ সালে সিমেন্টের মূর্তি স্থাপন করা হয়।
চাটমোহর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক অশোক চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে মেলা পরিচালনা হচ্ছে ।
তিনি আরও জানান, বাঙালি হিন্দুদের এই সার্বজনীন উৎসব যথাযথভাবে আয়োজন করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
আরটিভি/এমএম




