ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাটমোহরে ঐতিহ্যবাহী ‘চড়ক পূজা’ শুরু

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
হিন্দুধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা : ছবি আরটিভি

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বড়াল নদীর তীরে বোঁথড় গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ‘চড়ক পূজা’ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ২২ চৈত্র থেকে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও তিন দিনব্যাপী মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামটি হয়ে উঠে হিন্দুধর্মের তীর্থ ক্ষেত্রের কেন্দ্র।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে আগামী বুধবার। এর আগে পুরো বৈশাখ মাসব্যাপী চলতো মেলা।

জানা গেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে চড়ক মেলা চলছে হাজার বছর ধরে। সিন্ধু সভ্যতা থেকেই বোঁথড়ের এই চড়ক পূজা চলছে একটি চড়ক গাছকে কেন্দ্র করে।

আরও পড়ুন

এক সময় মেলার দেড়-দুমাস আগেই বড়াল নদীর পাড়ের চাটমোহর উপজেলার বোঁথড় গ্রামটিতে পড়ে যেত সাজ সাজ রব। বহু দূর-দূরান্ত থেকে দোকানীরা এসে তাদের পসরা সাজিয়ে বসতো। যাত্রা, সার্কাস, নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শন, ঘোড়াদোলা ও পুতুল নাচে এক উৎসবে ভরে উঠতো গোটা চাটমোহর অঞ্চল। মেলার সেই জৌলুস আজ আর নেই, নেই জাঁকজমকও। তবুও আছে চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর, বিগ্রহ মন্দির। তাই বছর শেষের এ মাসটিতে এখনো মেলা বসে তিনদিন ব্যাপি। অভাব দারিদ্রতা পশ্চাৎপদ বিল পাড়ের গ্রামীণ মানুষের একঘেঁয়ে নিরানন্দ জীবনে সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা বৈচিত্রের স্বাদ আনে।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে, শক রাজাদের আমলে হাজার বছর আগে এটি শুরু হয়। সে মতে শুদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মুক্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভাব হয় মহাদেবের। সে সময়টিতে বর্ণ হিন্দু দ্বারা নিগৃহীত হতো নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়। এই পূজা বা মেলা উপলক্ষে সিংহল, বার্মা ও ভারত থেকে ৪৭ সালের আগে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ আসতো বোঁথড় গ্রামে। ব্রক্ষমণ্যবাদের বিলোপ ঘটলে বর্ণ হিন্দুরাও এতে সম্পুক্ত হয়ে পড়ে, রূপান্তুরিত হয় সর্বজনীন জাতের পূজায়। মূলত এ মেলা (পূজার) প্রচলন হয় বান রাজার আমল থেকে।

দোলবেদীতলা মহাদেবের আসনে তোলা হয় ২৮ চৈত্র, ৭ বৈশাখ নামানো হয়। এ সময় ১৩ জন বৃদ্ধাকে ৬ দিন উপোস করতে হয়। ১২৫২ বঙ্গাব্দে এক ভুমিকম্পে বিধ্বস্ত হয় বোঁথড় শিবমন্দির। সম্প্রতি মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে মন্দির থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের শিবমূর্তি চুরি হলে ১৯৯০ সালে সিমেন্টের মূর্তি স্থাপন করা হয়।

চাটমোহর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক অশোক চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে মেলা পরিচালনা হচ্ছে ।

তিনি আরও জানান, বাঙালি হিন্দুদের এই সার্বজনীন উৎসব যথাযথভাবে আয়োজন করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাছের ঘেরে পড়েছিল বাপ্পি, ঘাড়ের ডান পাশে গুলি ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন 
খুলনায় মাছের ঘের থেকে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মাছের ঘেরে পড়েছিল বাপ্পি, ঘাড়ের ডান পাশে গুলি ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন 
আবাসিক হোটেলের বাথরুমে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হতো খাঁটি মধু, অতঃপর...
ফেনীতে একটি আবাসিক হোটেলের ছয়তলার বাথরুমে চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডার বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হতো ভেজাল মধু। ২ কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হতো এই তথাকথিত ‘খাঁটি মধু’।
আবাসিক হোটেলের বাথরুমে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হতো খাঁটি মধু, অতঃপর...
৫০ শয্যার হাসপাতাল: এক্স-রে আছে-ফিল্ম নেই, জেনারেটর আছে-তেল নেই
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল ও ব্যবস্থাপনায় চলছে সেবা কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা।
৫০ শয্যার হাসপাতাল: এক্স-রে আছে-ফিল্ম নেই, জেনারেটর আছে-তেল নেই
হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ
সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে মরদেহের ওপর সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ হোসাইন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিপুল সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন অভিযুক্তরা। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আওলাদ রেহানার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। হত্যার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। রেহানার নিখোঁজের ঘটনায় তার মা আইরিন আক্তার অপহরণ মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের ধারায় রূপান্তর করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে সেখানেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলায় আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। আর জামিনে রয়েছেন দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা। আরটিভি/এসকে
হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কে মিলল ছাত্রদল নেতার মরদেহ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশ থেকে আঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কে মিলল ছাত্রদল নেতার মরদেহ
আরও পড়ুন
অক্টোবরে টানা ৫ দিনের ছুটি পেতে পারেন যেভাবে
দুর্গাপূজায় কারা কতদিন ছুটি পাবেন
এক আঙিনায় ১৬০ প্রতিমা, মঠবাড়িয়ায় দুর্গাপূজার ব্যতিক্রমী আয়োজন
অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোবিজ তারকাদের ক্ষোভ