ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মনপুরায় জেলে পরিচয়ে পণ্য পাচার ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
মনপুরা ট্রলারঘাট : ছবি আরটিভি

ভোলার মনপুরা উপজেলা থেকে মাছধরা ট্রলারযোগে পাশবর্তী দেশ মিয়ানমারে নিয়মিত পাচার হচ্ছে জ্বালানি তেল, নির্মাণসামগ্রী ও চাল-ডালের মতো নানা পণ্য। অন্যদিকে আমদানি করা হচ্ছে মাদক। এ চক্রের সক্রিয় চার সদস্য হলেন- শরিফ ছেরাং, মালেক মাঝি, নুরনবী মাঝি ও খলিল মাঝি। জেলে পরিচয়ে তারা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন এই পাচার কার্যক্রম।

শরিফ ছেরাং ও মালেক মাঝি মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নুরনবী মাঝি এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খলিল মাঝি।

অভিযোগ রয়েছে তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিটি ট্রলারবোঝাই পণ্য মিয়ানমারে খালাস করেন। এতে কারবারীরা প্রতি ট্রিপে পান দশ লাখ টাকা। ফেরার পথে মিয়ানমার থেকে মনপুরায় কোটি টাকার মাদকের চালান নিয়ে আসেন। পরে ওই মাদক তিনগুণ দামে স্থানীয় মাদকের ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মালেক মাঝি তার ছেলে শামীমের দোকানের নামে ইস্যুকৃত ট্রেডলাইসেন্স দেখিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে জ্বালানি তেল, ভোগ্যপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করেন। পরে তিনি তার নৌকাযোগে মনপুরার সূর্যমুখী মৎস্যঘাটের শামীম স্টোরে মজুত রাখেন এবং সুযোগ বুঝে গোপনে নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘দমার চর’-এ নিয়ে যান। এ চরটি নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলার একটি অংশ। ওই চরে আগে থেকেই অবস্থান করা শরিফ ছেরাং, নুরনবী মাঝি ও খলিল মাঝির পাঁচটি সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলারে এসব পণ্য তুলে দেন। পণ্যবোঝাই শেষে শরিফ ছেরাং, নুরনবী মাঝি ও খলিল মাঝি তাদের ট্রলারগুলো নিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, মনপুরা থেকে সর্ব প্রথম পণ্য পাচারের কার্যক্রম শুরু করেছেন খলিল মাঝি, নুরনবী মাঝি, মালেক মাঝি ও শরিফ ছেরাং। তারা গত দু’মাস ধরে সমুদ্রে মাছ শিকারের বেশভূষায় মনপুরার কয়েকটি মৎস্যঘাট থেকে সমুদ্রের বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিত্যপণ্য ও জ্বালানি-ভোজ্য তেল পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে পাচার করছে। তাদের মতো পাচারকারী চক্রের আরও তিন ডজন সক্রিয় সদস্য মনপুরা ও চরফ্যাশনের রয়েছে।

মনপুরার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের পর সে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। বাংলাদেশের সঙ্গে দামের বড় পার্থক্যের কারণে অতিমুনাফা লাভের আশায় অবৈধ এই কার্যক্রম চালাচ্ছে পাচারকারী চক্র।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের এক জেলে বলেন, মালেক মাঝি তার ছেলের দোকানের নামে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি-ভোজ্য তেল, কোমল পানীয় নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে পাইকারী কিনে আনেন। এসব মালামাল দোকানে বিক্রি না করে দ্বিগুন দামে শরিফ ছেরাং, খলিল মাঝি ও নুরনবী মাঝির সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলারে পাচার করার জন্য তুলে দেন। এভাবেই শরিফ ছেরাং গত দুই মাসে নয়টি, খলিল মাঝি ত্রিশটি, নুরনবী মাঝি ষোলটি ট্রিপ সম্পন্ন করেছেন। কালকিনি চর থকে মিয়ানমার যাওয়ার যে সামুদ্রিক চ্যানেল রয়েছে, তাতে কোস্টগার্ডের টহল সীমিত থাকায় তারা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টায় নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন চর আতাউর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মনপুরার নুরনবী মাঝি ও পাচার চক্রের আরও এক সদস্য কাশেম শিকদারের দুইটি পণ্যবোঝাই ট্রলার আটক করেছে হাতিয়া কোস্টগার্ড স্টেশন। ওইসময় তাদের ট্রলারে থাকা বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৭৬০ বস্তা আলু জব্দ করা হয়েছিল। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নুরনবী মাঝি ও কাশেম শিকদারসহ তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যান।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

আরও পড়ুন

পণ্য পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে মালেক মাঝি বলেন, আমার বোটে কোন মালামাল আসে না। আমার ছেলের দোকানের মালামাল আলাউদ্দিন মাঝির বোটে আসে। শরিফ ছেরাং, খলিল মাঝি ও নুরনবী মাঝির সাথে আমার কোন যোগসূত্র নেই।

পাচার কার্যক্রমটি মনপুরায় লোকমুখে আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে থাকায় গা-ঢাকা দিয়েছেন শরিফ ছেরাং, খলিল মাঝি ও নুরনবী মাঝি। এ কারণে তাদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে শরিফ ছেরাং ও খলিল মাঝির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে নুরনবী মাঝির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

হাতিয়া কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মুঠোফোনে বলেন, ইতোমধ্যে মনপুরা ও হাতিয়ার পাচারকারী চক্রের কয়েকটি ট্রলার আটকসহ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সমুদ্রের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মনপুরার যেসব জেলে বাংলাদেশী পণ্য পাশবর্তী দেশ মিয়ানমারে পৌঁছে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। যেহেতু এটা নৌপথ, এখানে নৌবাহিনী ও কোস্টগাড এর নজরদারী থাকলে এই চক্রটির পাচার কার্যক্রম বন্ধ হবে। যদি মনপুরার কোন জেলে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জালে আটকে যাওয়া একটি বিষধর পদ্মগোখরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলে ফারুক মাঝি এ মাছটি বিক্রি করেন।  মতিরহাট ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম খোকন জানায়, ঘাট এলাকার স্থানীয় জেলে ফারুক মাঝি এক সপ্তাহ সাগর থেকে ফিরে প্রায় দেড় লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেন। যার মধ্যে এ ইলিশটি পৃথকভাবে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।  ঢাকার মাছ ব্যবসায়ী মো. বাহার মিয়া মাছটি কিনে নেন।  বাহার মিয়া জানান, তিনি এ মাছটিসহ অন্য মাছগুলো ঢাকার বাজারে নেবেন। সেখানে গিয়ে এ মাছটির দাম কত হবে, এমনটি জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কমপক্ষে ১ থেকে ২ হাজার লাভে বিক্রি করবো। তারপর ঢাকার ব্যবসায়ীরা আরও এক-দুই হাজার লাভ করতে পারে। সব মিলে এ রকম বড় সাইজের এ ইলিশটির দাম ঢাকার বাজারে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। বাহার মিয়া বলেন, ছোট মাছে কেজি প্রতি লাভ হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্ত বড় ইলিশে ভালো লাভ করা যায়।  এদিকে স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার জানান, নদীতে ইলিশ কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে জেলেদের এখন মাছ শিকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আরটিভি/এসএস
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন উপজেলার তিন হাজার মানুষ।
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
আরও পড়ুন
বাজার ছেয়ে গেছে ভারতের স্বাদহীন ইলিশ, পদ্মার ইলিশ বলে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ
বান্দরবান সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ, বাংলাদেশি যুবক নিহত
মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলা, নিহত ১৪