ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাশয় অনুমতি ছাড়াই ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহমুদুল ইসলাম এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা ব্যয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য দরপত্র অনুমোদন দেয় ঝালকাঠি পৌরসভা।
এদিকে, এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়কটি ৪-লেনে পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সংশ্লিষ্ট জমি প্রয়োজন হবে। অনুমতি ছাড়া অন্যকোনো সরকারি/বেসরকারি কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ কাজে "ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী কোনো পূর্ব অনুমোদনও গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, উক্ত স্থানে কোনো স্থাপনা/ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন এ জমিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই একই স্থানে ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে অনুমিত ছাড়াই ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য দরপত্র অনুমোদন দিয়েছে।
কৃষ্ণকাঠি মৌজার, ৯৯ নং জে এল , ১৪২৮ নং এস এ দাগের এ জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানার জমি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেছে। সেই জমির পাশে এখনও ব্যক্তি মালিকানার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রয়েছে। এছাড়াও জায়গাটি একটি জলাশয়। এটি বালু দিয়ে ভরাট করাও অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া নদী, খাল, বিল, পুকুর বা জলাধার ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। 'প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০' এবং 'পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫' (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করে জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে জমির মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ দাগের সম্পূর্ণ জমি আমাদের ক্রয়কৃত। এ দাগ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু অধিগ্রহণের পরও দাগের বেশির ভাগ জমির মালিকানা আমাদের, তাই এ ধরনের উন্নয়নকাজে জমির সঠিক পরিমাপ করা এবং জমির প্রকৃত মালিককে নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এমনকি অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগও কিছু জানে না। পৌর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমি কাজের অনুমতি পেয়েছি, তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। জমির মালিকানা কার—বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখবে।
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, ঝালকাঠি পৌরসভার একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থাকা একান্ত জরুরি। সে কারণে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।
সব মিলিয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে আইন লঙ্ঘন ও পরিবেশ ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরটিভি/টিআর




