ভোলার চরফ্যাশনে জমি বিরোধের জেরে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে একই পরিবারের পাঁচ নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে হয়েছে। এ ঘটনায় আলমগীর মাতব্বর বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চর কলমী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, জান্নাত, ফাতেমা, রুবিনা, নুর তাজ ও নুর নাহার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর মাতব্বর ও ফারুক মাতব্বরের মধ্যে প্রায় আড়াই বছর ধরে ৭২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে ফারুক মাতব্বর তার সহযোগীদের নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করলে আলমগীর মাতব্বরের পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় ফারুক মাতব্বর তার ভাই ও সন্তানসহ কয়েকজন মিলে নারীদের লক্ষ্য করে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
আলমগীর মাতব্বর জানান, আড়াই বছর আগে ৭২ শতাংশ জমি কিনে দখলে নিলেও প্রতিপক্ষ ফারুক মাতব্বর একই জমির দাবি তুলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শশীভূষণ থানায় বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবার সকালে তিনি থানায় যান। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ ফারুকসহ তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী-সন্তানদের চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে তাদের ওপর তাদের মারধর করে। এতে পাঁচ নারী গুরুতর আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আলমগীর আরও জানান, ফারুক, দুলাল, ইমাম, নাগর, ইয়াছিন, হারুন, নুরু, ফিরোজ, রহিম ও খোকনসহ ১০ জনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।
অন্যদিকে, ফারুক মাতাব্বরের দাবি, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং তারা সেটি দখলে নিতে গেলে আলমগীর পক্ষ বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং দুই পক্ষেরই লোকজন আহত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রিজয়া উদ্দিন জানান, গুরুতর আহত পাঁচ নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম




