বাগেরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান (২৬) নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়া ওরফে কানা আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাসাবাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে অবস্থিত ‘হাছান আবাসিক’ নামের একটি হোটেল তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন।
হোটেলটি নেওয়ার পর থেকেই আজিম ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে হোটেল তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে থাকে।
এরই মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল রাতে রিয়াজুল ইসলাম হোটেলের একটি কক্ষে অবস্থানকালে আজিম ভূঁইয়াসহ ৭-৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের বাসাবাটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে লোহার হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
এ সময় হোটেলটি হস্তান্তর বাবদ জোর করে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন তাকে হোটেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ২০ এপ্রিল সকালে আবারও অভিযুক্তরা হোটেলে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে পুনরায় মারধর করে। এমনকি তাকে অমানবিক নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে গোপন অঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে চাঁদার টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে বিকেলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্ত হয়ে রিয়াজুল ইসলাম বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে এ ঘটনায় আজিম ভূঁইয়াসহ ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে গত ২১ এপ্রিল বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম।
বাগেরহাট পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সরদার জসিম বলেন, ৫ আগস্টের পর বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকায় আজিম ভূঁইয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ হাজারো অভিযোগ রয়েছে।
এসবের বিরুদ্ধে কথা বলায় গেল বছরের ১২ মার্চ আমার বাড়ির সামনে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আজিম ও তার সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আমি মামলা করলে একটি আবাসিক হোটেল থেকে হাতবোমাসহ আজিম ভূঁইয়া ও তার ভাই সেলিম ভূঁইয়াসহ ১৮ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। তবে, বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে এসব সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। আমরা বাসাবাটি এলাকার সাধারণ মানুষ আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি আবাসিক হোটেলের মালিককে অপহরণ করে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আজিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, অপহরণসহ চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আরটিভি/এমএম




