পঞ্চগড়ে সম্প্রতি গ্রীষ্মকালে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের সাথে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়ায়। এতে করে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। জেলার সবচেয়ে বেশি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বর্হিবিভাগেও চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন শত শত ডায়রিয়া রোগী।
সাধারনত প্রতি বছর মার্চ এপ্রিলে উত্তরের এই জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। জেলা শহরে ডায়ারিয়া আক্রান্ত বেশি দেখা যায়। তবে জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় বাড়েনি ডায়রিয়া রোগী। পঞ্চগড় সদর এবং বোদা উপজেলায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রার্দুভাব।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এক মাস পূর্বে গড়ে ২০ থেকে ২২ জন রোগী প্রতিদিন ভর্তি হয়েছিল।
তবে বর্তমানে রোগীর সংখ্য বেড়ে গিয়ে হাসপাতালটিতে গত সাত দিন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল জরুরী বিভাগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ৩৫, ১৬ এপ্রিল ৩৫, ১৭ এপ্রিল ৩২, ১৮ এপ্রিল ৩৩, ১৯ এপ্রিল ৩৬, ২০ এপ্রিল ৩৯, ২১ এপ্রিল ৩৭, ২২ এপ্রিল ৩৫ জন বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ছাড়াও প্রতিদিনই বর্হিবিভাগে আর ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এতে করে হাসপাতালের মহিলা পুরুষ এবং শিশু ওয়ার্ডে রোগী বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে ২০ থেকে ২২ জন শিশু রোগীকে বেডে চিকিৎসা দেওয়া যায় তবে বর্তমানে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে মেঝেতে বিছানা দিয়ে স্বজনরা তাদের শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল কবির জানান, মূলত স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং বাসি খাবারের কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, ডায়রিয়া রোগী সামান্য বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সহ জনবল সংকট রয়েছে তবে ঔষুধ স্যালাইন সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নানান সংকটের মধ্যেও স্বাস্থ্য বিভাগ ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা চলমান।
আরটিভি/এসএস



