দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম। তিনি গেজেটেড বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগমের কন্যা। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাউর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা এই নারী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
জন্মপরিচয়ের কারণেই জীবনের শুরু থেকেই সমাজের অবহেলা, ঘৃণা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন শামসুন্নাহার। যুদ্ধশিশু পরিচয়ের কারণে তাকে কেউ বিয়ে করেনি। নিঃসঙ্গতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক অপমান তাকে বারবার আত্মহত্যার চিন্তায় ঠেলে দিলেও ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে সে পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে।
বর্তমানে তিনি গুরুতর মনোদৈহিক সমস্যায় ভুগছেন। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গলায় তার বড় ধরনের অসুখ। চিকিৎসার কোনো সামর্থ্য নেই তার।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, গত ডিসেম্বর মাসে পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক চাপের কারণে মাইরধর করে জোর করে সৎ ভাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি মাধবপুরের মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের পাশের একটি মন্দিরের কাছে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হচ্ছে তাকে।
তার এই করুণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি তিনি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ।
শামসুন্নাহার বেগম বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বাড়ি ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কিছুই পাইনি। আমি আজ ঘরহীন। আমার জীবনটা কেন এমন হলো, তা সবাই জানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি আমার কষ্ট বুঝতে পারেন।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু শামসুন্নাহারের কষ্ট শেষ হয়নি। তিনি অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন। এটি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শামসুন্নাহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, সামাজিক ও পারিবারিক পুনর্বাসন, আইনগত সহায়তা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরটিভি/এসএস




