ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম। তিনি গেজেটেড বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগমের কন্যা। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাউর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা এই নারী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জন্মপরিচয়ের কারণেই জীবনের শুরু থেকেই সমাজের অবহেলা, ঘৃণা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন শামসুন্নাহার। যুদ্ধশিশু পরিচয়ের কারণে তাকে কেউ বিয়ে করেনি। নিঃসঙ্গতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক অপমান তাকে বারবার আত্মহত্যার চিন্তায় ঠেলে দিলেও ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে সে পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে।

বর্তমানে তিনি গুরুতর মনোদৈহিক সমস্যায় ভুগছেন। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গলায় তার বড় ধরনের অসুখ। চিকিৎসার কোনো সামর্থ্য নেই তার।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, গত ডিসেম্বর মাসে পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক চাপের কারণে মাইরধর করে জোর করে সৎ ভাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি মাধবপুরের মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের পাশের একটি মন্দিরের কাছে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হচ্ছে তাকে।

তার এই করুণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি তিনি।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ।

শামসুন্নাহার বেগম বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বাড়ি ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কিছুই পাইনি। আমি আজ ঘরহীন। আমার জীবনটা কেন এমন হলো, তা সবাই জানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি আমার কষ্ট বুঝতে পারেন।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু শামসুন্নাহারের কষ্ট শেষ হয়নি। তিনি অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন। এটি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শামসুন্নাহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, সামাজিক ও পারিবারিক পুনর্বাসন, আইনগত সহায়তা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম জিল্লুর রহমান বদলি
আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে।
আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম জিল্লুর রহমান বদলি
মাধবপুরের ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাধবপুরের ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ
পা পিছলে চলন্ত ট্রেনের চাকার নিচে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ষোলশহর রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পা পিছলে চলন্ত ট্রেনের চাকার নিচে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষককে গাছে বেঁধে পুলিশ ডাকলেন স্থানীয়রা
ফরিদপুরের সদরপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাওলানা মো. মাসুদ (২৭) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষককে গাছে বেঁধে পুলিশ ডাকলেন স্থানীয়রা
অভিযোগ নেই, তবু সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করল পুলিশ
বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার এক সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বহন বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নেই। পরীক্ষার প্রতিবেদনেও তার শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এদিকে, তাকে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। গ্রেপ্তার সাংবাদিক মো. আসাদুল হক সবুজ দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি। তিনি জেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্র জানায়, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে থেকে আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাকে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এ হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে নেওয়ার সময় আসাদুলের দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। এর আগে সদর থানা পুলিশ তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করায়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আসাদুলের পরিবারের অভিযোগ, মামলায় মাদক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ না থাকার পরও ডোপ টেস্ট করানোর কারণে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছে তাদের। পাশাপাশি পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়ার ঘটনাকে তারা অমানবিক ও অপমানজনক বলে দাবি করেছেন। আরটিভি নিউজ/এসআর
অভিযোগ নেই, তবু সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করল পুলিশ
আরও পড়ুন
আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম জিল্লুর রহমান বদলি
মাধবপুরের ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ
শিশুর ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ করে জিন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখান শিক্ষক
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী