নীলফামারীর ডিমলার খালিশা চাপানির কাকিনা শিশু বিকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকজনে।
শনিবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয়ে মোট তিনজন শিক্ষার্থীর দেখা মিলে।
এর মধ্যে, পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। পাশের চতুর্থ শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। তৃতীয় শ্রেণির কক্ষ ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। একই সময়ে পাশের একটি কক্ষে একজন শিক্ষককে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
এ সময়, প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষকেরা তড়িঘড়ি করে হাজিরা খাতা পূরণ করতে শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, মোট শিক্ষার্থী ৭২ জন। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন, স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। তাই বাচ্চাদের পাঠাতে আগ্রহ পাই না।
অন্য আরেকজন অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় অনেকেই সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোনাব্বর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে সরকারি ল্যাপটপ বাসায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলে জিনিসপত্র নিরাপদে রাখা যায় না, চুরির আশঙ্কা থাকে।
শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন আসে। কয়েকদিন আগে পাশের পুকুরে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়াই শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বজায় রাখতে হলে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান ও কার্যকর তদারকি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও উদ্যোগ নিতে হবে।
আরটিভি/টিআর




