গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বাড়ির পাশে রেললাইন থেকে বাবার এবং নিজ ঘর থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বড় ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হোসেন (৫২) ও তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৮)। আটককৃত হলেন সোহান হোসেন (২৭)।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। কিছু বছর আগে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। তারপর, থেকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়েই বাড়িতে বসবাস করতেন। সাকিব রাজধানী উত্তরায় একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি চাকরিও করতেন।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সাকিব হোসেনের মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর তার দুই হাতের রগ কেটে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া তার বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ পাশের বনমালা রেললাইনে পড়ে ছিল। তার শরীরে রেলের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহান হোসেন পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মস্থলে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন (নাইট ডিউটি) শেষে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়ায় তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিজ ঘর থেকে সাকিব হোসেনের মরদেহ এবং রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সোহেল হোসেনের বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/টিআর




