মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সম্পত্তিসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জেসমিন খাতুন (৭০) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত জেসমিন খাতুন উপজেলার চন্ডিখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্বামীর বাড়িতে বসবাস করতেন এবং দুই মেয়ে সন্তানের জননী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
নিহতের ভাই বাদশা খন্দকার বলেন, গত ২৫ মার্চ রাতে খাবার শেষে স্বামীর ঘরে অবস্থান করছিলেন আমার বোন জেসমিন খাতুন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একাধিক ব্যক্তি আমার বোনকে ধরে রাখে এবং মুখ চেপে ধরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ ঘরের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরদিন সকাল ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পাই। জেসমিন খাতুনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামিরা হচ্ছেন- শামীম মোল্লা, লিয়াকত মোল্লা, লিটন মোল্লা, রেশমী, মোমেনা এবং বিথী। ঘটনার পর আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



