নরসিংদীর রায়পুরায় মেয়ের বিয়ের টাকা খরচ করাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে আফিয়া আক্তার (৫০) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের হাইরমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আফিয়া পাঁচ সন্তানের জননী এবং ওই গ্রামের ইজিবাইক চালক সুজন মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আফিয়া-সুজন দম্পতির মেজো মেয়ে চাঁদনির বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার জন্য তাদের বড় মেয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুজন মাদকাসক্ত হওয়ায় ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা সরিয়ে নিয়ে খরচ করে ফেলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
তারা আরও জানান, সুজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণ নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই আফিয়াকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আফিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুজন পলাতক রয়েছেন।
এ দিকে নিহতের প্রতিবেশী মুবারক হোসেন বলেন, আফিয়াকে সব সময়ই সুজন অত্যাচারের ওপর রাখতো। আফিয়ার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতো। সুজন গাঁজা খাইতো, নেশা করতো। তাদের মেয়ের আজকে বিয়ে ছিল। টাকাও বলে দিছিল ২০ হাজার, পরে সুজন এই টাকা খরচ করে ফেলে। বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফিয়াকে মারছে। কারণ টাকার জন্য নেশা করতে পারে না।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
রায়পুরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেপ্তারে রায়পুরা থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।
আরটিভি/এমআই



