উজান থেকে থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান ডুবে গেছে। গত দুইদিনের হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে। এদিকে ফসল ঘর তুলতে ধানের মাঠে কাজ করছেন নারীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওরের দাসনাগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় দেখা গেছে, দুই নারী হাওর থেকে জমির কাটা ধান নৌকায় বোঝাই করে তীরে এনে নৌকা থেকে ধান তুলছিলেন পাড়ে।
এ সময় কথা হয় কৃষাণী রুনা বেগমের (৩০) সঙ্গে। তার বাড়ি হাওরের পাশ্ববর্তী দিরাই উপজেলার রাজনগর গ্রামে।
রুনা বেগম বলেন, সকালে গ্রামের এক যুবককে নিয়ে আমার স্বামী তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটছেন। আর ওই কাটা ধান নৌকা করে এনে এখন পাড়ে তুলছি। পরে এখানেই মাড়াই কাজ শেষে বাড়িতে নিয়ে যাব। নলুয়ার হাওরে এবছর ৫ কেদার (৩০ শতাংশ জমিতে এক কেদার ধরা হয়) জমিতে ফসল চাষাবাদ করেছেন এই কৃষক পরিবার। ৫ সদস্যের সংসারে সারাবছরের সংসারের যোগান চলে এই ফসল থেকে। ওই নারীর মতো পাকাধান ঘরে তুলতে লড়ছেন অনেক নারীরা।
নলুয়ার হাওরের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া জানান, ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।
কথা হয় চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দেড়-দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধার-দেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?
একই গ্রামের কৃষক রূপ মিয়া, মোহন মিয়া, ছাবির মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হাওরের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। ডুবে গেছে ধান শুকানোর খলা। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে বেগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি।
আরটিভি/এমএইচজে



