খাগড়াছড়িতে কালবৈশাখী ঝড়, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত তিন দিনে জেলার অন্তত ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমসহ বিভিন্ন ফলচাষিরা।
কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড খাগড়াছড়ির কৃষি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আম, কলা, লিচুসহ বিভিন্ন ফলবাগান এবং বোরো ফসলি জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমবাগানে। ঝড়ের সময় গাছ থেকে ঝরে পড়েছে প্রচুর আম। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগানিরা।
এর বাইরে আধাপাকা ও পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ক্ষতির শিকার হয়েছে। জেলা সদরের ঠাকুরছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকের ধান মাটির সঙ্গে মিশে আছে। দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় টানা বৃষ্টিতে নিচু জমি জলাবদ্ধ হয়ে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরে তোলার জন্য কেটে রাখা ধানও অনেকের নষ্ট হয়েছে। একই চিত্র মহালছড়ি ও পানছড়িতেও।
নিচু জমির ধান ও মৌসুমি সবজি পানিতে তলিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। তারা জরুরি ভিত্তিতে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকারের যেকোনো সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় আধাপাকা ও পাকা ধান ২২১ হেক্টর, সবজি ৬৩ হেক্টর এবং ফলবাগান ৫৪৮ হেক্টরসহ মোট ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




