ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

মসজিদে ঢুকেও হয়নি শেষ রক্ষা, তিনজনকে কুপিয়ে জখম

মাগুরা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১১:০২ এএম
মসজিদে ঢুকে তিনজনকে কুপিয়ে জখম। ছবি: আরটিভি

মাগুরার শ্রীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে ঢুকে তিনজনকে কুপিয়ে জখমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১ মে) শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখ গুরুতর জখম হয়েছেন। এর মধ্যে মোক্তার শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে। লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে মাঠে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনার জেরে দুপুর দেড়টার দিকে সাচ্চু গ্রুপের সমর্থকেরা চরজোকা পশ্চিমপাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুলু-সমর্থিত লোকজন মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।

জানা গেছে, চরজোকা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাচ্চু গ্রুপ ও দুলু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন হাবিবুর রহমান দুলু।

মসজিদে ঢুকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনই আগে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংঘর্ষের সময় আহত কেউ মসজিদে ঢুকে থাকতে পারেন।

অন্যদিকে, হাবিবুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ঢুকে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

শ্রীপুর থানার (ওসি, তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সামাজিক বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, মাগুরায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এ-সকল ঘটনার পেছনে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন তারা।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাচাতো বোনকে দফায় দফায় ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ১১ বছর বয়সি এক মাদরাসা ছাত্রীকে দফায় দফায় ধর্ষণের অভিযোগে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্তের চাচাতো বোন।  পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হত বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন। এমনকি শিশুটির মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথেও অবস্থান নিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য পুনরায় হুমকি দেন।  পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা প্রকাশ পেলে আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে সামাজিকভাবে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তের ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান। অবশেষে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, এসআারবি-৭-এর একটি আভিযানিক দল হালিশহর থানাধীন কবির ম্যানশন আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে ১১ বছর বয়সি শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মো. জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আরটিভি/এসআর  
চাচাতো বোনকে দফায় দফায় ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
হিমালয়ের শকুনের দেখা মিলল কুড়িগ্রামের লোকালয়ে
হিমালয়ের বরফঢাকা পাহাড় পেরিয়ে শীতের অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে আসা একটি হিমালয়ান গৃধিনী শকুন এবার আশ্রয় নিয়েছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটের লোকালয়ে। 
হিমালয়ের শকুনের দেখা মিলল কুড়িগ্রামের লোকালয়ে
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন।  দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮)-এর শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে এ ঘটনা ঘটে।
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
আরও পড়ুন
শিশু আছিয়া ধর্ষণ: ঘটনার সময় লুঙ্গিতে বীর্যপাত করেন হিটু শেখ
মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় আজ
মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ
ঝিনাইদহে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম