পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নবনির্মিত একটি টয়লেটের ব্যয়সংক্রান্ত নামফলক ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নামফলকে নির্মাণ ব্যয় প্রায় দুই কোটি টাকা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইদু হাওলাদার বাড়ির সামনে একটি মসজিদের পাশে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিলের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
প্রকল্পের কাজ শেষে টয়লেটের দেয়ালে স্থাপন করা নামফলকে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখ করা হয় এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩ টাকা। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নজরে এলে তারা ভিডিও ও বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। দ্রুতই এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরিফুল নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, সরকারি টাকা এভাবেই লুটপাট হচ্ছে। অন্যদিকে ইউনুস আলী নামে আরেকজন লেখেন, এত দামি টয়লেট আমরা ব্যবহার করতে চাই না।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম হাওলাদার বলেন, কত টাকায় টয়লেট নির্মাণ হয়েছে, তা আমরা জানি না। নামফলকে দুই কোটি টাকা লেখা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৃত ব্যয় এত বেশি নয়। বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী আরজুরুল হক জানান, টয়লেট নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ৯৩ পয়সা। নামফলক প্রিন্টিংয়ের সময় ভুলবশত অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়ায় এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই নামফলকটি সংশোধন করা হয়েছে।
এদিকে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান ফিরোজ বলেন, একটি সামান্য ভুলকে কেন্দ্র করে বিষয়টি বড় আকার নিয়েছে। একটি চক্র এটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো আলোচনা চলছে, তবে সংশোধিত তথ্য প্রকাশের পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে।
আরটিভি/এসকে



