ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে আন্তঃসীমান্ত নদী পুনর্ভবার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোরো চাষিদের স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল কুজইনসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির আধাপাকা ও পাকা বোরো ধান নিমজ্জিত হয়েছে। প্রকৃতির এই আকস্মিক বৈরিতায় ঋণের বোঝা আর অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।
সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কৃষকরা তাদের আধাপাকা ধান ঘরে কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় এখনও পানি ঢুকেনি সেসব এলাকায় বাঁধ তৈরির কাজ করছেন।
কৃষকরা জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকে কাটার উপক্রম হওয়া পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয় তাদের জন্য এক নির্মম আঘাত। ধান কাটা শ্রমিকদের তীব্র সংকটের মধ্যে এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের স্বপ্ন ভঙ্গের প্রধান কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, সারা বছর কষ্ট করে চাষ করা ধান এভাবে চোখের সামনে পানির নিচে চলে যাবে তা কখনো ভাবেননি তারা। আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় পেলেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হতো, কিন্তু এখন তাদের সামনে কেবল ঋণের বোঝা আর চরম অনিশ্চয়তা।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ধান হয়তো রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, গোমস্তাপুরের বিল কুজইন এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬০ হেক্টর বা প্রায় ৪৪৮ বিঘা জমির ধান পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি বলেন, কৃষকদের দাবি ও সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ ও নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/কেডি




