হাঁড়িভাঙা আমের ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের আশা

বাসস

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৩:০৫ পিএম


হাঁড়িভাঙা আমের ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের আশা
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হাঁড়িভাঙা আম। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হাঁড়িভাঙা আম। যার সুনাম ছড়িয়েছে বিদেশেও। যার ফলে এই আমটি এখন জিআই পণ্য। স্বাদ-গন্ধে অতুলনীয় এই আমের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি এ বছর আড়াইশ’ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় হতে ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিকভাবে ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও আমচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পাকা হাঁড়িভাঙা আম বাজারে মিলবে। এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব থাকে। একটু বেশি দামের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে বাজারে অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় ‘অফ ইয়ার’। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘অন ইয়ার’। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া হয়। 

কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হবে।

রংপুর জেলায় এবার আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা প্রায় ১০-১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। যার মূল্য ২৫০ কোটি টাকারও বেশি।

মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি নাজমুল ইসলাম বলেন, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সামনে আরও ঝড় হলে লোকসান গুনতে হবে।

পদাগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা ও আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বড় বড় পার্টি ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। আশা করছি, এবার আমের দাম ও চাহিদা দু’টোই সন্তোষজনক হবে।

আরও পড়ুন

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে এই আমের ব্র্যান্ড ভ্যালুও বেড়েছে, যা ভালো দাম নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে।

বেঞ্জু আরও বলেন, বিশাল এই বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবহনে বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করা উচিত।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমের অন ইয়ার। প্রচুর আম ধরেছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য হলো এটি আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এই আমের আঁটিও খুব ছোট। চামড়াও পাতলা। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২শ’-৩শ’ গ্রাম।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission