চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসা তাফহিমুল হোসাইনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চক্ষু হাসপাতালটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বায়তুল মামুর চক্ষু হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল। এ সময় তাফহিমুল হোসাইনকে আটক করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর আওতায় তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে একই হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেও তখন তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বুধবার পুনরায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় তিনি কোনো বৈধ সনদপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের বৈধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বৈধ নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, ইউএনওর গোপনীয় সহকারী মিজানুর রহমানসহ থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তাফহিমুল হোসাইনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার একই অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল বান্দরবানে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনার সময় তাকে ও তার ৯ সহযোগীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ মে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামেও একই অপরাধে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা তাফহিমুল হোসাইন নিজেকে ‘রাশিয়া পাস চক্ষু বিশেষজ্ঞ’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে তার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বা কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের বৈধ সনদ নেই।
আরটিভি/এমএইচজে



