ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বাবারে কিন্তু আমি বুকে নিয়া বাসায় যামু’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘বাবারে কিন্তু আমি বুকে নিয়া বাসায় যামু’, ‘আমি তো বাবারে এমনে আনি নাই, এখন এমনে কেমনে নিয়া যামু’, ‘বাবা তো আমার কাছে আর আসব না’, ‘আল্লাহ কেন দয়া করল না’, ‘বাবা আমার আগে কেন চইল্যা গেল’, ‘বাবারে কত কষ্ট দিছি, বাবা মাফ কইরা দিয়ো’- হাসপাতালে এভাবেই আর্তচিৎকার করছিলেন হাম ও অন্যান্য জটিলতায় মারা যাওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশু মো. তাকরিমের মা আমেনা বেগম। একসময় বাবা মো. মহসীন মুঠোফোন বের করে তার মাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘মা, তোমার নাতিরে আল্লায় নিয়া গেছে গো, তোমার নাতি দুনিয়া ছাইড়া চলিয়া গেছে গো, তোমার রুমে যাইয়া আর কান্না করব না তোমার নাতি।’

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় শিশু তাকরিম। সেখানে ভোলার বাংলাবাজারে বাসিন্দা মা আমেনা বেগম আর বাবা মো. মহসীন একটানা বিলাপ করছিলেন।

সকাল ১০টায় শিশুটি মারা যাওয়ার পর বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মা–বাবা হাসপাতালেই ছিলেন। তাকরিমের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে নেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের সিটে তাকরিমের কাফনে মোড়ানো ছোট মরদেহটা রাখা হয়। আমেনা বেগমকে বসানো হয়েছিল সামনের সিটে। তখন তাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। মা পেছনে তাকালেও ছেলের মরদেহের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না।

জানা গেছে, গত এক মাস যাবত ভোলা থেকে ঢাকা, আবার ঢাকা থেকে ভোলায় ফেরা— এভাবেই চলছিল তাকরিমের চিকিৎসার লড়াই। জ্বর-কাশি, র্যাশসহ নানা জটিলতায় তাকরিমকে প্রথমে ভোলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল, হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা আবার চিকিৎসকের চেম্বারে দেখানো— এভাবে অনেকটা সময় চলে যায়।

বাবা মহসীন গণমাধ্যমকে বলেন, ভোলায় চিকিৎসকেরা তাকরিমের হাম শনাক্ত করতে পারেননি। অ্যালার্জি হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসা করেছেন। দিন দিন ছেলের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। ডাক্তারের কাছে ১০০ বার জিজ্ঞেস করছি বাচ্চাটার কি হাম হইছে? শুধু বলছে অ্যালার্জি হইছে। একটা বারও যদি হামের কথা বলত, তাইলে ছেলেরে আরও আগেই ঢাকায় নিয়া আসতাম।

জানা গেছে, তাকরিমের অবস্থা খারাপ হলে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে জানান হাম ও হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতার কথা। দুদিন এই হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাকরিমের জন্য পিআইসিইউ লাগবে। সরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ না পেয়ে তাকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তাকরিমের খালু কুদরতুল্লাহ গণামধ্যমকে বলেন, ভোলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসা নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। অব্যবস্থাপনা ও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে শিশুটি।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউ (নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) ও পিআইসিইউর সিনিয়র রেজিস্ট্রার মো. আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে হাম ও হাম–পরবর্তী জটিলতা নিয়ে একদম শেষ পর্যায়ে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া তাকরিমের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়া, রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকরিমের হার্টে ছিদ্র ছিল।

এদিকে তাকরিমের পিআইসিইউর প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। হাসপাতালের বিল বাড়তে থাকলে দিশাহারা হয়ে পড়েন বাবা-মা। তাকরিমের বাবা-মা গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ যদি তাকরিমকে নিয়ে নিতে চান, তাও তারা দিতে রাজি আছেন। তারা শুধু চান তাদের সন্তান বেঁচে থাকুক। এই প্রতিবেদন দেখে তাকরিমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার একজন প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে চার লাখ টাকার বেশি বিল পরিশোধ করেন এবং পরিবারকে নগদ আরও এক লাখ টাকা দেন।

আরও পড়ুন

শিশুটির বাবা মহসীন গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রী চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেও ছেলেকে তো বাঁচানো গেল না।

মহসীন জানান, তিনি অটোরিকশা চালান। বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেক টাকা খরচ করেছেন। তার বড় মেয়ের বয়স তিন বছর। এত চেষ্টার পরও সন্তানকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে বাবা-মা বেলা আড়াইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। ছেলের মরদেহ নিয়ে ভোলার পথে রওনা দেন তারা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কক্সবাজারে দুইদিন কাটায় তাজমিন, সঙ্গে ছিলেন রাজু
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামনে এসেছে তার নিখোঁজ হওয়ার আগের কয়েক দিনের নানা তথ্য। ফেসবুকের মাধ্যমে রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার। মাত্র ১৭ দিনের গভীর সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় তাজমিন। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর কুমিল্লায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে।
কক্সবাজারে দুইদিন কাটায় তাজমিন, সঙ্গে ছিলেন রাজু
রাজুর ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল ১৫ বছর বয়সী এই স্কুলছাত্রী। জানা গেছে, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাদের সম্পর্ক ১৭ দিনের। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা সম্পর্কে জড়ায়। চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়া যায়। সেখানে থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়। কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছে সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে। কক্সবাজার কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। তখন তারা তাদেরকে একজন মেয়ে ও ছেলে হিসেবেই মনে রাখে, মাত্র কাস্টমার ভাবে। পরদিন বুধবারের জন্য টিকিট কাটে ছেলেটি। একটি টিকিট।  বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছে। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। এদিকে, হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হয় ও মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করে, পুলিশ জানতে চাইতে পারে বলেই সে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। পরে জানতে পারে সঙ্গে আসা ছেলে বন্ধুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। এদিকে ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি। পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আরটিভি/এসআর
রাজুর ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন
রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ জনের বাড়িতে আগুন দিল জনতা
রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ জনের বাড়িতে আগুন দিল জনতা
পোস্টার সাটানোর সময় ধরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় '১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে গণহত্যাকারী ইউনুস গং এর ফাঁসি চাই' লেখাসংবলিত পোস্টার লাগানোর অভিযোগে লিটন মন্ডল (৩২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
পোস্টার সাটানোর সময় ধরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
পা পিছলে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মুজাহিদুল ইসলাম নাফিজ (২৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
পা পিছলে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের
আরও পড়ুন
পা পিছলে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের
খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু
পল্লি চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর
মাগুরায় ইজিবাইকের চাপায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু