দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনবিহীন ভাবেই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভুল রিপোর্ট সরবরাহ করার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নির্ধারিত মূল্যতালিকাও প্রকাশ্যে টাঙানো হচ্ছে না। এর ফলে ভুক্তভোগী রোগীরা প্রতিনিয়তই অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে বাধ্য হচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেরই সরকারি অনুমোদন না থাকায় পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনাস্থা।
উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারের বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, এখানকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ভুল রিপোর্ট পাওয়ায় অন্য জায়গায় গিয়ে আবারও পরীক্ষা করতে হয়েছে। এতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানকার ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষার ফি একেক সময় একেক রকম নেওয়া হয়। কোনো নির্ধারিত মূল্য তালিকা নেই। তাই আমাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভাদুরিয়া বাজারের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, লাইসেন্সের জন্য ইতোমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। আমরা নিয়ম মেনেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
স্থানীয় ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব দীপক চন্দ্র দাস বলেন, অনুমোদনহীনভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে কাগজপত্র যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএস/এসআর



