হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, বরিশালেও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৮ মে) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টার মধ্যে তারা মারা যায়। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩ জনে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, মারা যাওয়া তিন শিশুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের বয়স ছয়মাস থেকে ১ বছর।
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় একজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪১ জন ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে, বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৃত শিশুটির নাম সাইমুন (১৩ মাস)। সে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শাকিল খানের ছেলে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত পৌনে ২টায় শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে শুধু শেবাচিম হাসপাতালেই হামের উপসর্গে ১৬ জনের মৃত্যু হলো।
শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ জন। বর্তমানে সেখানে ১৪০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত হাসপাতালটিতে এই উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭২৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ জানান, হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। বেড বা শয্যা সংকটে অনেক সময় এক বেডে দুই থেকে তিনজনকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন।
আরটিভি/এমএম




