ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যতিক্রমধর্মী একটি খামার গড়ে তুলেছেন আমেরিকা প্রবাসী রফিকুর রহমান। তার খামারে রয়েছে হরিণ, ময়ূর, গরু, গাড়ল ও দেশি-বিদেশি জাতের ছাগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।
উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা এই খামারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারটি দেখতে আসছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে হরিণ ও ময়ূরের উপস্থিতি যেন বাড়তি আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে।
খামারটির তত্ত্বাবধায়ক ওই প্রবাসীর বড় ভাই মো. দলিল উদ্দিন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণী পালন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই রফিকুর রহমানের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে খামারে কয়েকজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন।
দলিল উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে খামার বলতে সাধারণত গরু-ছাগলকেই বোঝানো হয়। আমরা চেয়েছি একটু ভিন্ন কিছু করতে। যাতে মানুষ নতুন কিছু দেখতে পারে এবং তরুণ উদ্যোক্তারা উৎসাহ পায়।
স্থানীয়রা জানান, সদরপুরে এমন ব্যতিক্রমী খামার আগে দেখা যায়নি। এটি একদিকে যেমন বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দিকও উন্মোচন করেছে।
ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রাণিসম্পদ খাতে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সব্যসাচী মজুমদার জানান, প্রবাসী রফিকুর রহমান বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধি-বিধান মেনে খামার পরিচালনা করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামারটি পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে



