ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকেছে গুলি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু রেশমি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিন আগেও যে শিশু বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যেত, ঘরের কোণে খেলাধুলা করত, সে এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনির শিশু রেশমীর বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর উৎকণ্ঠা। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতিহিংসার বলি হয়ে ১১ বছরের এই শিশুটি এখন লাইফ সাপোর্টে।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় একটি গুলি লাগে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমী আক্তারের বাঁ চোখে। গুলিটি চোখ ভেদ করে তার মস্তিষ্কে ঢুকে যায়। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোববার (১০ মে) বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউর সামনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একদিকে চিকিৎসা চলছে রেশমীর, অন্যদিকে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। মা সাবেরা বেগম বারবার চোখ মুছছিলেন, আর বাবা রিয়াজ আহমেদ নিশ্চুপ বসে ছিলেন। রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। প্রয়োজন ছাড়া সে খুব একটা বাইরে যেত না।

কান্নায় ভেঙে পড়ে মা সাবেরা বেগম বলেন, ২০ টাকা হাতে দিয়ে মেয়েকে পান আনতে পাঠিয়েছিলাম। যদি জানতাম বাইরে এমন গোলাগুলি হবে, তবে কখনোই তাকে পাঠাতাম না।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলছিল। আশপাশের লোকজন সরে যেতে পারলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি।

রেশমীর বাবা মো. রিয়াজ আহমেদ একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাঁটাচলায় কষ্ট হলেও শাকসবজি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা পাওয়া গেলেও আইসিইউর খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। রেশমীর বড় ভাই মোহাম্মদ এজাজ জানান, চিকিৎসকেরা তাদের বলেছেন রেশমীর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।

চমেক এনেসথেসিওলজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বাকী বিল্লা রোববার একটি গণমধ্যমকে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ রেশমি আক্তার হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ-সাপোর্টে আছে। তার শারীরিক অবস্থা আজকে আরও খারাপের (অবনতি) দিকে। তার মাল্টি অর্গান ফেইলর। হার্ট, ফুসফুস সবকিছু মেশিন ও ওষুধের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় ক্লিনিক্যালি ডেথ ঘোষণা করা হতে পারে।

চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফুল আলম জানান, গুলিটি রেশমীর মস্তিষ্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে, যা মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শনিবার সকালে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ডও এখনই গুলি বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত। সেই হত্যার বদলা নিতেই সন্ত্রাসীরা রউফাবাদ এলাকায় রাজু নামের এক যুবককে টার্গেট করে গুলি চালায়। সন্ত্রাসীদের সেই গুলিতেই বিদ্ধ হয় নিরীহ শিশু রেশমী। এই ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অজ্ঞাতনামা আট থেকে নয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছে মূল অপরাধীরা।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বা কারা এই মাস্কধারী সন্ত্রাসী, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্কুলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিতে গিয়ে নিখোঁজ ৩ ছাত্রী উদ্ধার, যা জানা গেল
বান্দরবানের লামায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তাদের। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলেন- ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া সুলতানা, নবম শ্রেণির ছাত্রী হালিমাতুজ সাদিয়া ও রেশমি আক্তার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। নিখোঁজের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার এক পর্যায়ে গতকাল বুধবার দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের একটি বাসা থেকে পৃথকভাবে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তারা সেখানে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। অপরদিকে, পরিবারের সদস্যদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, রেশমি আক্তারসহ তিন কিশোরী তার বিদ্যালয়ে যায়নি। রেশমি অষ্টম শ্রেণিতে ওই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। চলতি বছর সে লামার ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। সত্যতা নিশ্চিত বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার করে বলেন, গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এমএ  
স্কুলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিতে গিয়ে নিখোঁজ ৩ ছাত্রী উদ্ধার, যা জানা গেল
দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ
প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।
দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ
বাবা ছিলেন ঘুমিয়ে, উঠে দেখলেন ১০ মাসের সন্তান গায়েব
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবার কোল থেকে রায়হান নামের ১০ মাসের এক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। 
বাবা ছিলেন ঘুমিয়ে, উঠে দেখলেন ১০ মাসের সন্তান গায়েব
বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সি স্টেজ বিডি লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। 
বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারের হুমকি
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে হেনস্তা ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডারে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের শর্ত নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল।
‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারের হুমকি
আরও পড়ুন
উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
কক্সবাজার যাবে নতুন ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচিসহ থামবে যেসব স্টেশনে
এ মুহূর্তে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত ১০৮