ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকেছে গুলি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু রেশমি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিন আগেও যে শিশু বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যেত, ঘরের কোণে খেলাধুলা করত, সে এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনির শিশু রেশমীর বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর উৎকণ্ঠা। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতিহিংসার বলি হয়ে ১১ বছরের এই শিশুটি এখন লাইফ সাপোর্টে।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় একটি গুলি লাগে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমী আক্তারের বাঁ চোখে। গুলিটি চোখ ভেদ করে তার মস্তিষ্কে ঢুকে যায়। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোববার (১০ মে) বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউর সামনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একদিকে চিকিৎসা চলছে রেশমীর, অন্যদিকে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। মা সাবেরা বেগম বারবার চোখ মুছছিলেন, আর বাবা রিয়াজ আহমেদ নিশ্চুপ বসে ছিলেন। রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। প্রয়োজন ছাড়া সে খুব একটা বাইরে যেত না।

কান্নায় ভেঙে পড়ে মা সাবেরা বেগম বলেন, ২০ টাকা হাতে দিয়ে মেয়েকে পান আনতে পাঠিয়েছিলাম। যদি জানতাম বাইরে এমন গোলাগুলি হবে, তবে কখনোই তাকে পাঠাতাম না।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলছিল। আশপাশের লোকজন সরে যেতে পারলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি।

রেশমীর বাবা মো. রিয়াজ আহমেদ একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাঁটাচলায় কষ্ট হলেও শাকসবজি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা পাওয়া গেলেও আইসিইউর খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। রেশমীর বড় ভাই মোহাম্মদ এজাজ জানান, চিকিৎসকেরা তাদের বলেছেন রেশমীর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।

চমেক এনেসথেসিওলজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বাকী বিল্লা রোববার একটি গণমধ্যমকে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ রেশমি আক্তার হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ-সাপোর্টে আছে। তার শারীরিক অবস্থা আজকে আরও খারাপের (অবনতি) দিকে। তার মাল্টি অর্গান ফেইলর। হার্ট, ফুসফুস সবকিছু মেশিন ও ওষুধের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় ক্লিনিক্যালি ডেথ ঘোষণা করা হতে পারে।

চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফুল আলম জানান, গুলিটি রেশমীর মস্তিষ্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে, যা মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শনিবার সকালে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ডও এখনই গুলি বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত। সেই হত্যার বদলা নিতেই সন্ত্রাসীরা রউফাবাদ এলাকায় রাজু নামের এক যুবককে টার্গেট করে গুলি চালায়। সন্ত্রাসীদের সেই গুলিতেই বিদ্ধ হয় নিরীহ শিশু রেশমী। এই ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অজ্ঞাতনামা আট থেকে নয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছে মূল অপরাধীরা।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বা কারা এই মাস্কধারী সন্ত্রাসী, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সংঘর্ষে একজন নিহত, পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে ৩ দিন ধরে লুটপাট
সুনামগঞ্জের শাল্লায় পতিত জমির দখল নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার জের ধরে প্রতিপক্ষের প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে টানা ৩ দিন লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় ফাঁকা বাড়িগুলোতে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালানো হয়েছে।  
সংঘর্ষে একজন নিহত, পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে ৩ দিন ধরে লুটপাট
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
বর্তমান সরকারের আট মাসের দেশ পরিচালনায় সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
ঢাকায় নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান, আটক ৬
কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় ভুয়া ও অননুমোদিত ওষুধ তৈরির কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ওষুধসহ ৬ জনকে আটক করেছে এসআরবি-২।
ঢাকায় নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান, আটক ৬
ডাব চুরি করতে গিয়ে গাছেই সাড়ে ৩ ঘণ্টা যুবক, নামাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসও
ডাব চুরি করতে নারকেলগাছে উঠেছিলেন এক যুবক।
ডাব চুরি করতে গিয়ে গাছেই সাড়ে ৩ ঘণ্টা যুবক, নামাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসও
নেই চিকিৎসক, গর্ভবতী নারীদের ছুটতে হয় দূরের হাসপাতালে
দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা ভবন। কক্ষে কক্ষে সাজানো চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রস্তুত শয্যা, চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য রয়েছে ডরমিটরি। এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে জেনারেটরও। কিন্তু নেই চিকিৎসক। এ অবস্থা ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। অভিযোগ রয়েছে, উদ্বোধনের আট বছর পরও চিকিৎসক সংকটের কারণে এসব কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে দূরদূরান্তের বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি। তবে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা ঝিনাইদহের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এসব হাসপাতাল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, গ্রামের নারীরা নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন, জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে এবং নবজাতকের প্রয়োজনীয় সেবাও মিলবে। কিন্তু আট বছরেও সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে সরকারি এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বড় একটি অংশ। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসর। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল, এ কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, প্রসূতি ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে এত দিনেও প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হিসেবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি। একই চিত্র ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অন্য তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও। তিনতলা ভবন, শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালগুলো নির্মাণের সময় যে আশার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসববেদনা ওঠা নারী কিংবা অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চারটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এসব হাসপাতালের বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি হাসপাতাল তিনতলাবিশিষ্ট। চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন কক্ষ। দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকার বাসিন্দা বসির আহম্মেদ বলেন, হাসপাতাল আছে, ভবন আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকলে মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? গর্ভবতী নারী কিংবা শিশুর অসুস্থতার সময় দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে। ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম বলেন, হাসপাতালগুলো চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। আরটিভি/টিআর
নেই চিকিৎসক, গর্ভবতী নারীদের ছুটতে হয় দূরের হাসপাতালে
আরও পড়ুন
২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হবে চট্টগ্রাম বন্দর
শুক্রবার চট্টগ্রাম যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
শিক্ষিকার চোখে মলম দিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাই