লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত অবস্থান নিলে বিএসএফ পিছু হটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে জোংড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৩ নম্বর পিলার-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন গরু ঘাস খাচ্ছিল। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য প্রথমে সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘাস কাটতে থাকা দুই নারীকে বাধা দেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা জোরপূর্বক গরুগুলোর দড়ি কেটে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারীরা চিৎকার করলে গরুর মালিকসহ এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে বাধা দেন। পরে বাংলাদেশি জনগণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্য এবং ভারতীয় নাগরিকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেন। বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র উঁচিয়ে বাংলাদেশিদের দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে দুই দেশের মানুষ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।
খবর পেয়ে ধবলগুড়ি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নেন। বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকরা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
গরুর মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার গরুগুলো সীমান্তে ঘাস খাচ্ছিল। বিএসএফ হঠাৎ এসে গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নারীরা চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে সীমান্ত এলাকার কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে বাধা দেন।
জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি গরু ধরে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএসএফের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছিল। বিজিবি সময়মতো পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত থাকলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। মূলত বিজিবি বিষয়টি তদারকি করছে এবং তাদের তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে।
আরটিভি/কেডি




