ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগবেড়, চিনাকান্দি, বিশ্বম্ভরপুর (সদর) বাজার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ ছিল মঙ্গলবার (১২ মে)। উপজেলা প্রশাসন এই তারিখ নির্ধারণ করেছিল।

ইজারা নিতে আগ্রহী ৫৩ জন দুই লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে সকালে উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে ইজারায় অংশ নেন।

কিন্তু বাজার ইজারা নিয়ে দুপুরে হটাৎ স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে অডিটরিয়াম থেকে বের হয়ে যান এবং ইজারা প্রদান স্থগিত করে দেন।

তবে ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই পক্ষের গণ্ডগোল থামানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেননি। উপস্থিত পুলিশকেও কোনও নির্দেশনা দেননি। পরে আর কোনও বাজার ইজারাও হয়নি। এসময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, বাজার ইজারা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে বাগবেড় বাজার নিতে আগ্রহীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেন পূর্বের ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন, বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু ও শামিম আহমেদেসহ অন্যরা। কিন্তু পরে মতানৈক্য দেখা দিলে বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু ও শামিম আহমদের লোকজন সাবেক ইজারাদার গিয়াস উদ্দিনের উপর হামলা চালায়।

এ সময় বাচ্ছুর লোকজন গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ইজারায় অংশ নিতে আসা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার আলম পরিস্থিতি সামাল দেন।

বাগবেড় বাজারের সাবেক ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই বাজারটি আমরা গেল বছর ইজারা নিয়েছিলাম। তাই এই বছর নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। এ নিয়ে উপস্থিত আগ্রহীদের সাথে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু হটাৎ করে মোহন মিয়া বাচ্ছু আমার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে। পরে আমাকে খুন করার হুমকি দেয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন আমাকে রক্ষা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু বলেন, গিয়াস উদ্দিন বাগবেড় বাজার নিতে আগ্রহী ছিল। আমিও বাগবেড় বাজার ইজারা নিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু প্রকাশ্যে বাজার ইজারায় সমঝোতার সুযোগ নেই। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে কেউ মারধর করেনি বা হুমকি দেয়নি। ইএনও বদলী হয়ে চলে যাবেন, নতুন ইউএনও যোগদান করবেন। তাই হট্টগোল হওয়ায় তিনি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছেন এবং সবার জামানতের টাকা ফেরত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান জানান, পশুর বাজার ইজারা না হওয়ায় আপাতত খাস আদায় চলমান থাকবে। বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে নিয়ম মোতবেক ইজারা সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাগবেড় ও চিনাকান্দি গরুর হাটে খাস কালেকশন (বাজারের টোল) আদায় করছেন পলাশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা একেএম সাব্বিরসহ অফিসের কর্মকর্তারা।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
আরও পড়ুন
অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে ফেলে দুই মাসের সন্তান নিয়ে উধাও স্বামী, অতঃপর...
চাঁদাবাজি করে ধরা খেয়ে দল থেকে বহিষ্কার তালহা
লিখিত স্ট্যাম্প দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ার অঙ্গীকার মা-ছেলের
পাটলাই নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ১