সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগবেড়, চিনাকান্দি, বিশ্বম্ভরপুর (সদর) বাজার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ ছিল মঙ্গলবার (১২ মে)। উপজেলা প্রশাসন এই তারিখ নির্ধারণ করেছিল।
ইজারা নিতে আগ্রহী ৫৩ জন দুই লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে সকালে উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে ইজারায় অংশ নেন।
কিন্তু বাজার ইজারা নিয়ে দুপুরে হটাৎ স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে অডিটরিয়াম থেকে বের হয়ে যান এবং ইজারা প্রদান স্থগিত করে দেন।
তবে ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই পক্ষের গণ্ডগোল থামানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেননি। উপস্থিত পুলিশকেও কোনও নির্দেশনা দেননি। পরে আর কোনও বাজার ইজারাও হয়নি। এসময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, বাজার ইজারা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে বাগবেড় বাজার নিতে আগ্রহীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেন পূর্বের ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন, বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু ও শামিম আহমেদেসহ অন্যরা। কিন্তু পরে মতানৈক্য দেখা দিলে বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু ও শামিম আহমদের লোকজন সাবেক ইজারাদার গিয়াস উদ্দিনের উপর হামলা চালায়।
এ সময় বাচ্ছুর লোকজন গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ইজারায় অংশ নিতে আসা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার আলম পরিস্থিতি সামাল দেন।
বাগবেড় বাজারের সাবেক ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই বাজারটি আমরা গেল বছর ইজারা নিয়েছিলাম। তাই এই বছর নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। এ নিয়ে উপস্থিত আগ্রহীদের সাথে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু হটাৎ করে মোহন মিয়া বাচ্ছু আমার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে। পরে আমাকে খুন করার হুমকি দেয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন আমাকে রক্ষা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্ছু বলেন, গিয়াস উদ্দিন বাগবেড় বাজার নিতে আগ্রহী ছিল। আমিও বাগবেড় বাজার ইজারা নিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু প্রকাশ্যে বাজার ইজারায় সমঝোতার সুযোগ নেই। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে কেউ মারধর করেনি বা হুমকি দেয়নি। ইএনও বদলী হয়ে চলে যাবেন, নতুন ইউএনও যোগদান করবেন। তাই হট্টগোল হওয়ায় তিনি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছেন এবং সবার জামানতের টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান জানান, পশুর বাজার ইজারা না হওয়ায় আপাতত খাস আদায় চলমান থাকবে। বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে নিয়ম মোতবেক ইজারা সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাগবেড় ও চিনাকান্দি গরুর হাটে খাস কালেকশন (বাজারের টোল) আদায় করছেন পলাশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা একেএম সাব্বিরসহ অফিসের কর্মকর্তারা।
আরটিভি/এসএস



