সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড আর বনদস্যু করিম শরিফ বাহিনীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল সংলগ্ন এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ বিষয় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন।
এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন ধরণের যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় বনদস্যু করিম শরিফ বাহিনীর সদস্যরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ করে গুলি চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি বন্দুক যুদ্ধ চলে।
এক সময় কোস্ট গার্ডের গুলির মুখে টিকতে না পেরে বনদস্যুরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে ধাওয়া করে মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. রমজান শরীফ (১৯) ও মো. এনায়েত মিয়া (২৫) নামের তিন বনদস্যুকে আটক করে তারা। তাদের কাছ থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ২টি ওয়াকিটকি ও ৪টি চার্জার উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতেন আটককৃত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। মামলা দায়ের শেষে তাদেরকে শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বনবিভাগের সহায়তায় দস্যুদের কবল থেকে ৪ জন জেলে মুক্ত হন।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এমএস




