পুলিশকে ম্যানেজ করে পাবনার ঈশ্বরদীতে রাতের আঁধারে পদ্মা নদী ও চরের ফসলি জমির মাটি লুটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চর-রুপপুর এলাকায় এক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে পদ্মা নদী ও চরের ফসলি জমির মাটি। রাতভর ৩-৪টা এস্কেভেটর বা ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ১০-১২টি ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ইট প্রস্তুতের জন্য ট্রাকবোঝাই করে মাটি নিয়ে ইটভাটায় বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা আর কঠোর বিধি নিষেধের কারণে এখন দিনের বেলায় বন্ধ রয়েছে মাটি কাটা। এ কারণে সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু করে সকাল ৮টা পর্যন্ত তরিকুলের মালিকানাধীন ইটভাটা 'এ অ্যান্ড বি'-এর পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রতিরাতেই চলে মাটি কাটার মহোৎসব। রাতভর এক্সকেভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্র্যাক্টর বা ড্রাম্পট্রাকে করে ইটভাটায় নেওয়া হয় এসব মাটি। এতে পদ্মা নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি।
এছাড়াও নদীর চরাঞ্চলের উর্বর ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। এলাকাবাসী মনে করেন, এভাবে নদী থেকে মাটি কাটা চলতে থাকলে একসময় নদী পাড়ের এলাকাগুলো ভাঙনের কবলে পড়বে। পাশাপাশি ওই এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সৃষ্টি হয়ে ওই অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পুলিশকে ম্যানেজ করে সেখানে অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। একেকটি স্কেভেটর বা ভেকু চললে প্রতিরাতের জন্য ১৩ হাজার টাকা দিতে হয়। তরিকুলও এই পদ্ধতি অবলম্বন করে নিয়মিত পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে মাটি কাটছেন। প্রতিরাতে সেখানে ৩-৪টি ভেকু লাগিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুটি এস্কেভেটর ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। নদীর পাড় কেটে একটি ভেকু দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। আরেকটি ভেকু দিয়ে সেই মাটি সরিয়ে ইটভাটায় স্তূপ করা হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে রাত দিন এক করে মাটি কেটে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এসব মাটি ইট প্রস্তুত করার জন্য ওই ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি কাটার প্রশ্নই ওঠে না। ভাটাই আমার না, আমি মাটি কাটব কীভাবে? আমি বাপের বড় ছেলে তাই আমার নাম হয়। এখন আমি ঢাকায়। মাটি কাটছে কি না জানি না। গতকাল রাতে কাটতেছিল পুলিশ এসে বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ভাটার মহাজন আমরা মাটি কিনে নেই।
এখন আপনার ভাটার নিচে নদী থেকে মাটি কাটা চলছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ওইটাতো করতেছে, সমস্যা নাই। ওইটা পরিচিত একজনের জমি। তার কাছে বলেই কাটতেছি। সে বলছে এখন কেটে নেন, পরে আবার ভরাট করে দিয়েন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার মুঠোফোনে বলেন, মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। রাতের আঁধারে চুরি করে কাটে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। আপনারা নিউজ করেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।
আরটিভি/এমএইচজে



