দেদারসে চলছে বন্যপ্রাণী শিকার, কৌশলে ভিডিও করলেন বিএনপি নেতা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৮:৫৪ পিএম


দেদারসে চলছে বন্যপ্রাণী শিকার, কৌশলে ভিডিও করলেন বিএনপি নেতা
বন্যপ্রাণী শিকারি চক্রের সঙ্গে কৌশলে থাকা বিএনপি নেতা। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানে দেদারসে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের জনবল সংকট ও নজরদারির অভাবে এসব অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এদিকে বন্যপ্রাণী রক্ষার স্বার্থে এবং শিকারি চক্রকে প্রকাশ্যে আনার কৌশল হিসেবে শিকারিদের সঙ্গে মিশে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক ও চৌমুহনী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আনিসুল আবদাল শাহ (লিটন) সাতছড়ি এলাকার চন্ডীছড়া চা বাগানে গিয়ে একটি শিকারি দলের ভিডিও ধারণ করেন।

জানা গেছে, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও এর ঘেঁষা চন্ডীছড়া চা বাগান, মাধবপুরের শাহাজীবাজারের রাবার বাগান এবং তেলমাছড়া বনভূমিতে একটি সক্রিয় শিকারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী শিকার করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শিকারিরা ও চা শ্রমিকদের একটি অংশ দলবেঁধে তীর-ধনুক নিয়ে বন ও বাগানে প্রবেশ করে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বন্য শুকর, মায়া হরিণ, বনমোরগসহ বিভিন্ন অতিথি পাখি শিকার করে। অনেক ক্ষেত্রে তীরবিদ্ধ প্রাণীগুলো জঙ্গলে ঢুকে পড়ে এবং পরে ধুঁকে ধুঁকে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়।

এলাকায় আহত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসার জন্য কোনো কেন্দ্র না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এদিকে, বন্যপ্রাণী অপরাধ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে একটি বিষয় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় প্রশাসনের অবহেলায় বন্যপ্রাণী শিকার দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় মোহাম্মদ আনিসুল আবদাল শাহ (লিটন) সাতছড়ি এলাকার চন্ডীছড়া চা বাগানে গিয়ে একটি শিকারি দলের ভিডিও ধারণ করেন। যাতে পুরো চক্রটির কার্যক্রম সামনে আসে।

পরে তিনি ভিডিওটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে বিবেচনায় পরবর্তীতে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন বলে জানা গেছে। 

তিনি জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করবেন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

পাখি প্রেমিক সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবী শাহ আলম হৃদয় বলেন, ওই এলাকায় নিয়মিত বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার হচ্ছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শিকার বন্ধ হচ্ছে না। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের অভিযোগগুলার তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাই।

হবিগঞ্জ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাবরিনা সিমু বলেন, আমরা নিয়মিত আইন প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ (ডিএফও) বলেন, চা বাগানে বন্যপ্রাণী শিকারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission