নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টার; শত ফুল আর ফল রাজ্য

বাসস

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ১২:২৮ পিএম


নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টার; শত ফুল আর ফল রাজ্য
ছবি: বাসস

নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টার শত শত ফুল আর ফলের রাজ্য। সবুজ চত্বরে হ্রদের পানিতে ফুটেছে রাশি রাশি গোলাপী আভার পদ্ম ফুল। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই পদ্ম হ্রদটিই হতে পারে যে কোনো ছুটির দিনে মানুষের শান্তির পরশ। মূলত মাতৃ গাছ থেকে চারা তৈরি আর বিক্রি করাই সেন্টারের কাজ।  

শহরের ঝাউতলা এলাকায় ৬৫ বিঘা জমির ওপরে অবস্থান করছে নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টার। শত শত ফুল আর ফল রাজ্য। সেন্টারে সারা বছর ধরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দের আবাসন ছাড়াও আছে তাদের উত্তম কৃষি চর্চার আবাদি জমি।

হর্টিকালচার সেন্টারের তোরণ অতিক্রম করলেই দু’টি অতিকায় পাম গাছ অভিবাদন জানাতে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের বামে ২শ’ মিটার জুড়ে হ্রদ। প্রথম ১শ’ মিটারে রোপণ করা হয়েছে লাল শাপলা, ফুটবে বর্ষাকালে। আর অবশিষ্ট ১শ’ মিটারে হ্রদের পানিতে গোলাপী রঙের আভায় ফুটে আছে রাশি রাশি পদ্ম। পদ্মের বিশাল পাতাগুলোতে টলমল করছে পারদের মত পানির দলা! পাতার পানির দলাগুলো ভারসাম্য হারিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে হ্রদের পানিতে। এ যেন ‘জীবন যেন পদ্ম পাতায় শিশির বিন্দু’র মূর্ত প্রতিচ্ছবি! ফুলের কানে গুঞ্জন করছে ভ্রমরের দল। শান্ত স্নিগ্ধ সেন্টারের গোলাপী পদ্ম মুহূর্তেই মনকে ভালো করে করে দিতে পারে। তবে সন্ধ্যার পরে শুক্লা তিথিতে আকাশ থেকে জ্যোছনা নামলে পদ্ম ফুলের রুপ হয়ে উঠে আরো মায়াবী।

আরও পড়ুন

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আর চারা উৎপাদন কেন্দ্র হওয়ার কারণে হর্টিকালচার সেন্টার সংরক্ষিত। তাই মানুষের আনাগোনা কম। অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকছে এই পদ্ম হ্রদটি। তবে একবার যে জেনেছে, সে আসে বারবার।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশীন আশরাফী আঁচল বলেন, হর্টিকালচার সেন্টারে ছোট্ট পরিসরে তৈরি করা পদ্ম লেকটি অপরুপ। পদ্ম ফুলের লেকের একপাশ জুড়ে হাজারো জিনিয়া পরিবেশকে অস্বাভাবিক সুন্দর করেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা জানান,ক্যাম্পাস ছুটি হলে নাটোরের বাড়িতে আসি। আর বাড়িতে আসলেই এখানে তো আসতেই হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন আকাশ বলেন, ফোটার অপেক্ষায় থাকা শাপলা লেকের একপাশ জুড়ে শোভা বর্ধন করছে গ্রীষ্মকালীন গাঁদা। এরোম্যাটিক জুঁই গেটের সুবাসে ভরপুর চারপাশ। অনন্ত লতা, মাধবী লতা, অপরাজিতা, অলকনন্দাসহ আরও অসংখ্য ফুল ফোটার অপেক্ষায় আছে। সেন্টারটি অনিন্দ্য সুন্দর।

87

আশির দশকে নাটোর শহরের ঝাউতলা এলাকায় নাটোর হর্টিকালচার সেন্টার গড়ে তোলা হয়। এই সেন্টারের প্রথম নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে এস এম কামরুজ্জামান। 

তিনি বলেন, ৬৫ বিঘার এই আঙিনা বলা চলে শুধুই ধান ক্ষেত ছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক জালাল উদ্দিন আহমেদের সহযোগিতায় হ্রদটি খনন করি। এই হ্রদ শাপলা আর পদ্মের জন্যে খুবই উপযোগী।

নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. শামীম ইকবাল বলেন, শুধু শাপলা আর পদ্মেই সীমাবদ্ধ থাকবে না হর্টিকালচার সেন্টার। সংগ্রহ করা অসংখ্য ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে। সব ফুল ফুটলে সুরভিত সুশোভিত হবে এই আঙিনা। সীমানা প্রাচীরের ভেতরে ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। হর্টিকালচার সেন্টারকে দর্শনীয় স্থানে পরিণত করতে চাই।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission