চট্টগ্রামে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম), আরটিভি নিউজ  

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ১১:০৪ এএম


চট্টগ্রামে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ছবি: কোলাজ আরটিভি

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন।’ 

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক বিএসবিআরএ এর এক সদস্য বলেন, জাহাজটি আর ভাঙ্গার জন্য ইয়ার্ডে বিচিং হবে না এটি এখন ফেরত পাঠানো হবে। জাহাজ ক্রয় করার পর আমদানিকারক জানতে পারেন জাহাজটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগে খবর পাওয়া গেলে এসএন করপোরেশন জাহাজটি ক্রয় করতো না। বিষয়টি জানার পর সাথে সাথে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ক্রয় করেন এসএন করপোরেশন। চট্টগ্রাম উপকূলে ৬১ কোটি টাকা মূল্যের “মেকেই” নামের একটি জাহাজ ভাঙার জন্য আনা হয়েছে যা একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। এমন জটিল পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে এর মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এর আমদানিকারক শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি থেকে অল্প দূরে নোঙর করে আছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া জাহাজ ‘মেমেই’।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।   

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission