বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মা ফজিলা বেগম (৪৭) নিখোঁজ থাকার সাড়ে তিন বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ফজিলা বেগমকে তার স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এসময় তার মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও জুয়েল মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবিতে ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তারা। এরপর বুধবার(৩জুন) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে পরিবারের ছয় সদস্য বাগেরহাটে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার(৪জুন) সকালে সেখানে পৌঁছান।
ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। তখন ফাতেমার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত, কিন্তু নাতনির মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে।
ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি সময় পর বোনকে ফিরে পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য আনন্দের, তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।
মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।
ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করার পর তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। পরে সমাজসেবা বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ফজিলা বেগমকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে গোসল করতে নামলে সাত বছর বয়সী ফাতেমাকে কুমির আক্রমণ করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা ফজিলা বেগমের পরিচয় উদ্ঘাটিত হয় এবং তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন।
আরটিভি/এসকে




