ইসলামে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী প্রয়োজন এমন ধারণা একটি বহুল প্রচলিত ভুল ব্যাখ্যা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বক্তা ও গবেষক ডা. জাকির নায়েক।
আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেক মুসলিম ও অমুসলিম ধর্ষণের বিষয়টিকে জিনা বা ব্যভিচারের বিধানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। অথচ ইসলামি শরিয়তে জিনা ও ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ।
ডা. নায়েক ব্যাখ্যা করেন, কোনো ব্যক্তি যদি কারও বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনেন, তাহলে তাকে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। অন্যথায় অভিযোগকারী নিজেই শাস্তিযোগ্য হবেন। তবে এই বিধান কেবল জিনার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ধর্ষণের ক্ষেত্রে নয়।
তার মতে, ধর্ষণ একটি জোরপূর্বক সংঘটিত অপরাধ, যা ইসলামি আইনবিদদের ব্যাখ্যায় ‘হিরাবাহ’ বা সমাজে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করেন, যেখানে সমাজে ভয়ভীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
ডা. নায়েক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। এ ধরনের মামলায় দুইজন সাক্ষী, পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিচারক যদি সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করে অপরাধীর বিরুদ্ধে নিশ্চিত হন, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ শতভাগ প্রমাণিত না হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড, বেত্রাঘাত বা অন্য উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তবে ইসলামি আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
আলোচনায় ডা. জাকির নায়েক রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে সংঘটিত একটি ধর্ষণের ঘটনারও উল্লেখ করেন, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর কাছে চারজন সাক্ষী চাওয়া হয়নি। বরং পরিস্থিতিগত প্রমাণ ও ঘটনার বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকৃত অপরাধী নিজেই অপরাধ স্বীকার করলে তাকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডা. নায়েকের মতে, এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয়। বরং অপরাধের সত্যতা নির্ধারণে পারিপার্শ্বিক, সাক্ষ্যভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে চার সাক্ষীর শর্ত রয়েছে এ ধারণা ইসলামের সঠিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে ইসলাম ধর্ষকের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছে।
আরটিভি/এসকে




