বিয়ের ফাঁদে প্রবাসীর সাড়ে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন তরুণী

​ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ১১:৫১ পিএম


বিয়ের ফাঁদে প্রবাসীর সাড়ে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন তরুণী
সোহানা খাতুন ও সোহেল রানা : ছবি আরটিভি

সোহানা খাতুন নামের এক তরুণী ও তার ভাই সোহেল রানা বিয়ের ফাঁদ পেতে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোহানা খাতুন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের তকিব উদ্দিনের মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের সোহানা খাতুনের। ভার্চুয়াল জগতের সেই আলাপ দ্রুত রূপ নেয় গভীর প্রেমে। সে সুবাদে ২০২২ সালে দুই পরিবারের মধ্যেও সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং বিয়ের কথাও হয়। এই সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগায় তরুণী সোহানা ও তার ভাই সোহেল রানা। পড়াশোনার খরচ, চাকরির ব্যবস্থা, দামি আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে সাদ্দামের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রবাসী সাদ্দামও সরল বিশ্বাসে প্রেমিকার আবদার মেটাতে কোনো কার্পণ্য করেননি।

সাদ্দাম হোসেন জানান, দীর্ঘদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও গত ২০২৫ সালের অক্টোবরের দিকে হঠাৎ করেই সোহানা ও তার পরিবার বৈরী আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২২ মে দেশে ফিরে আসেন সাদ্দাম। দুই পরিবার মিলে বৈঠক করে গত রমজানের ঈদের দ্বিতীয় দিন বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে এবং সেই অনুযায়ী কেনাকাটাও ধুমধাম করে শেষ হয়। কিন্তু নাটকের আসল দৃশ্যপট বাকি ছিল তখনও। বিয়ের কেনাকাটা শেষ হতেই সোহানার পরিবার হঠাৎ নানা অজুহাতে বিয়েতে বেঁকে বসে এবং সাদ্দামকে প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুন



পরবর্তীতে সাদ্দাম জানতে পারেন, তার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা হজম করে এখন সোহানাকে অন্য জায়গায় ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতারণা বুঝতে পেরে টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে স্পষ্ট ‘না’ করে দেয় তরুণীর পরিবার।

​আইনি নোটিশ ও ‘অজ্ঞাত’ হুমকি

টাকা ফেরত পেতে সাদ্দাম হোসেন বিদেশ থাকা অবস্থাতেই গত ১৭ মে আইনজীবীর মাধ্যমে সোহানা ও তার ভাইয়ের নামে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। 

সাদ্দাম হোসেনের আইনজীবী এস. এম. মনজুরুল হক জানান, প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিবাদী পক্ষ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে আদালতে একটি চতুর জবাব দাখিল করেছে।

এদিকে, আইনি নোটিশ পাঠানোর ১০ দিন পর দুটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে সাদ্দামকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দেশে ফিরে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৮ মে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী সাদ্দাম।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তরুণী সোহানা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতারণার এই অভিনব কৌশল এবং প্রবাসীর সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনাটি এখন কালীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission