বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ, শিবির নেতা বহিষ্কার

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৬ পিএম


বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ, শিবির নেতা বহিষ্কার
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান আহম্মেদ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার (১৩ জুন) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি।

শনিবার (১৩ জু্ন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সাংগঠনিক বিধি অনুসারে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনোটি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা দেবে সংগঠনটি।

তবে পুরো নিখোঁজ ও মামলা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, গত রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি বা পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিখোঁজের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের তথ্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর বোন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন, তবে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়ের এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট নয় বলে দাবি ছাত্রশিবিরের।

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

এর আগের দিন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ এনে এক বিধবা নারী জিসান আহম্মেদ প্রধানকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানান, নির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission