মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করল ‘মাদক নির্মূল কমিটি’

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৬:১৬ পিএম


মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করল ‘মাদক নির্মূল কমিটি’
ছবি: আরটিভি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মো. ফয়েজ উদ্দিন (৪৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নিহতের ছেলে রেজাউল করিম বাদশা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাকতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়েজ উদ্দিন একই এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ভ্যানে করে আম, কাঁঠাল ও সবজি বিক্রি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদরাসার পেছনে কবরস্থানের পাশ থেকে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য ফয়েজ উদ্দিন, মো. কিরণ ও মো. আজিজ নামে তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে নদনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে ফয়েজ উদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অপর দুজনকে নদনা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিরণ ও আজিজকে উদ্ধার করে। পরে গ্রাম পুলিশ শফিক উল্লার সহযোগিতায় টহল পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

আরও পড়ুন

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়েজ উদ্দিনকে স্বজনরা সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা একত্রিত হয়ে হত্যা করেছে।

ওসি আরও বলেন, মামলায় ১২ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission