ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করল ‘মাদক নির্মূল কমিটি’

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মো. ফয়েজ উদ্দিন (৪৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নিহতের ছেলে রেজাউল করিম বাদশা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাকতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়েজ উদ্দিন একই এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ভ্যানে করে আম, কাঁঠাল ও সবজি বিক্রি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদরাসার পেছনে কবরস্থানের পাশ থেকে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য ফয়েজ উদ্দিন, মো. কিরণ ও মো. আজিজ নামে তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে নদনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে ফয়েজ উদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অপর দুজনকে নদনা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিরণ ও আজিজকে উদ্ধার করে। পরে গ্রাম পুলিশ শফিক উল্লার সহযোগিতায় টহল পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

আরও পড়ুন

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়েজ উদ্দিনকে স্বজনরা সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা একত্রিত হয়ে হত্যা করেছে।

ওসি আরও বলেন, মামলায় ১২ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুনামগঞ্জে আপন ভাইকে শেকলবন্দি করে নির্যাতন
মাদক সেবন ও পরিবারের সদস্যদের মারপিট করার অভিযোগ তোলে এক ভাইকে শেকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগে আপন দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
সুনামগঞ্জে আপন ভাইকে শেকলবন্দি করে নির্যাতন
ভারত থেকে ঝিনাইদহ আ.লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুম বৈঠক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে ভারতের মাটি থেকে সরাসরি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এক গোপন ভার্চ্যুয়াল জুম বৈঠক সম্পন্ন করেছেন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
ভারত থেকে ঝিনাইদহ আ.লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুম বৈঠক
মুন্সীগঞ্জে দুই মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পৃথক দুটি ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী ও এক মৃগী রোগীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ও বিকেলে উপজেলার বাঘড়া ও বাড়ৈখালী ইউনিয়নে এ দুটি ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাঘড়া ইউনিয়নের মধ্যবাঘড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামিয়া একাধিকবার বাবা-মাকে ঝগড়া না করার জন্য অনুরোধ করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, বুধবার এশার নামাজের সময় বাড়ির কাউকে না জানিয়ে নিখোঁজ হন বাড়ৈখালী গ্রামের মৃত মরণ শেখের ছেলে স্বপন শেখ (৫০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের তাছির শেখের কচুরিপানায় ভরা পুকুরে তাঁর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পৃথক দুটি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
মুন্সীগঞ্জে দুই মরদেহ উদ্ধার
কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ করতোয়ার চর
শরতের কাশফুলে বদলে গেছে রংপুরের পীরগঞ্জের করতোয়া নদীর চরাঞ্চলের দৃশ্য। নদীর তীরে ও চরের উঁচু জায়গাজুড়ে ফুটেছে সাদা কাশফুল। আর এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়। বিশেষ করে বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মানুষ ছুটে আসছেন কাশবনে। সরেজমিনে দেখা গেছে, করতোয়া নদীর জাতের ঘাটে বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ ঘাসের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশবন দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও কেউ কেউ আসছেন। অনেকে কাশফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও তুলছেন। কেউ আবার নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন শরতের এই সৌন্দর্য। দর্শনার্থীদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বিকেলের দিকে। সূর্যের আলো নরম হয়ে এলে কাশফুলের শুভ্রতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে চরাঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শরৎকালে করতোয়ার চরে কাশফুল ফুটলেও এবার ফুল ফোটার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিকেলে নদীর পাড়ে অনেক মানুষের সমাগম হচ্ছে। কাশবনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাশফুল দেখতে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, কাশফুলের এমন দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখতে ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে বিকেলে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছি। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ সুন্দর। আরেক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশফুলের ছবি দেখে এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসে দেখলাম, জায়গাটি বেশ সুন্দর। বিকেলে এখানে অনেক মানুষ আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও এখানে পর্যটনসুবিধা তেমন নেই। যাতায়াতব্যবস্থা, বসার জায়গা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা গেলে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। শরতের কাশফুল বাংলার প্রকৃতির চিরচেনা সৌন্দর্যের অংশ। করতোয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর আর সাদা কাশবন দেখতে এখন প্রতিদিনই ছুটে আসছেন মানুষ। ফলে শরতের মৌসুমে পীরগঞ্জের এই চরাঞ্চল স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠছে নতুন এক আকর্ষণের জায়গা। আরটিভি/টিআর
কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ করতোয়ার চর
রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলাকারীরা রাষ্ট্রের শত্রু: ভূমিমন্ত্রী
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে বলেছেন, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন রাজশাহীবাসীর মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যারা এই স্থাপনা ধ্বংস করেছে, তারা পুরো রাজশাহীবাসীর সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মন্ত্রী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রেলস্টেশনের বিভিন্ন ভাঙচুরের স্থান পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনীর’ তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট রাজশাহী ও ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর যেভাবে হামলা চালিয়ে শহীদ সাকিব আনজুমসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, রেলস্টেশনের ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। যারা এ ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া বক্তব্য ছড়াচ্ছে, তাদের ‘রাজশাহী ও রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, প্রযুক্তি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহীবাসীকে ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বহিরাগত কোনো শত্রু বা ষড়যন্ত্রকারী যদি চক্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে রাজশাহীবাসী অতীতে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে তার উপযুক্ত জবাব দেবে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, শফিকুল ইসলাম শাফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলুসহ থানা, ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলাকারীরা রাষ্ট্রের শত্রু: ভূমিমন্ত্রী
আরও পড়ুন
কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে নোয়াখালীতে আটক ৬৮
বিয়ের আশ্বাসে নারীকে দুবাই নিয়ে যান বাহার, অতঃপর...
আড়াই কেজির বেশি ওজনের রুপালি ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার ৪৫০ টাকায়
এক ইলিশ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি