দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে ছাত্রদল নেতা

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৭:৪০ পিএম


দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে ছাত্রদল নেতা
মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ সাদান। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে গিয়েছিলেন সাব্বির আহমেদ সাদান নামের এক ছাত্রদল নেতা। কিন্তু, বিয়ের আসরে ফাঁস হয়ে যায় তার আগের বিয়ের কথা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বর সাব্বির ও তার সঙ্গে যাওয়া লোকজনকে মারধর করে আটকে রাখেন কনের বাড়ির লোকেরা। শেষ পর্যন্ত কনেপক্ষকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পান তারা। 

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামে।

বর সাব্বির আহমেদ সাদান একই জেলার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি ও বাঘমারা গ্রামের আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাব্বিরের বাবা আসাদুজ্জামন আজাদ মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। ২০২২ সালে সাব্বির প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন। আইমনা আক্তার সর্ম্পকে সাব্বিরের ভাতিজি হয়। বিয়ের পর থেকে তারা গোপনে সংসার করে আসছিলেন।

কিন্তু, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষকদলের সভাপতি শাজাহান মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় সাব্বিরের। প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেই বিয়ের তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে যান তিনি। খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী আইমন আক্তার কনের বাবা শাজাহান মিয়াকে তাদের বিয়ের বিষয়টি জানান। এ খবর পেয়ে কনেপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বরপক্ষের লোকজনদের মারধর করে আটকে রাখেন। পরে কয়েক দফা আলোচনা করে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পান বর ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন।

আরও পড়ুন

তবে, ঘটনা এখানেই শেষ নয়; কনের বাড়ি থেকে ছাড়া পেয়ে শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন সাব্বির ও তার লোকজন। হামলায় আইমনা আক্তারের বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। 

হামলা থেকে রক্ষা পেতে ৯৯৯ নাম্বারে কল দেয় আইমনার পরিবার। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব্বিরের বাবা মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমার ছেলে আগে একটা বিয়ে করেছে সেটা আমার জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর কেন্দুয়া গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থনে যায়। বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় এক নারীকে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission