একটা রেভুলেশন বা বিপ্লব আমাদের গন্তব্য নয়, আসলে একটা যাত্রা শুরু। এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে বলেছেন পঞ্চগড়-১ অসনের সাংসদ ও আইন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
তিনি বলেন, আসলে যে পৃথিবীটা দেখা যায় তার বাইরেও একটা পৃথিবী আছে। সেই অজানা পৃথিবীটা দেখার ইচ্ছা থেকেই অনিয়মের বিরূদ্ধে সাধিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের জগদল ডিগ্রী কলেজে নবীন বরন ও শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি বলেন, আমরা যদি মনে করি যে বিপ্লব হয়ে গেছে। সব শেষ, সব প্রাপ্তি হয়েছে। আসলে তা নয়। এটা হচ্ছে যাত্রা শুরু, এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমরা যদি মনে করি যে বিপ্লব শেষ, আমাদের সবকিছু প্রাপ্তি হয়েছে তা নয়। আমরা সব সময় মনে করি যে কোন একটা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে আসলে সেখান থেকেই আমাদের যাত্রার শুরু। লক্ষ্যে পৌঁছে যদি মনে করি চিন্তার কিছু নেই আসলে তা নয় সেইখান থেকেই আমাদের চিন্তা শুরু।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওশাদ জমির বলেন, এই যে তোমাদের সামনে এইচএসসি পরীক্ষা এই পরীক্ষাটাই কি শেষ আসলে তা নয় এই পরীক্ষাটা দিয়ে জীবনের আরেকটা ধাপ শুরু। এই পরীক্ষা শেষ করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, কেউ কারিগরি পড়াশুনায় যাবে, কেউ কৃষিতে যাবে কেউ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করবে। আসলে একটার পথচলা শেষ আরেকটা ধাপের পথচলা শুরু। আর এটিই হচ্ছে বিপ্লবের আসল বার্তা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি বলেন, তোমরা যখন ইতিহাস পড়বে তখন ১৯৫২-১৯৪৭ এর আাগে থেকে ইতিহাস পড়বে। গণতন্ত্র নিয়ে পড়াশুনার ক্ষেত্রে আমরা মনে করি এটি পশ্চিমা চিন্তাভাবনা আমরা এটি ধার করে এনেছি। ব্যপারটা কিন্ত সেরকম না। এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পাল বংশ যখন রাজত্ব শুরু করে তখন পাল বংশের রাজা যখন দুই দেশে রাজত্ব শুরু করে তখন কয়েকটি গোত্রের মানুষদের দিয়ে গোপাল রাজা নির্বাচিত করেছিল। এটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চার বাংলাদেশে শুরু। এজন্য কোন ধার করা চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছি না। এটা আমাদের নিজেদের ঐতিহ্যটা অনেক পুরোনো।
এবারের বাজেটে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলায় ভাষা বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড়-১ আসনের এই এমপি বলেন, জগদল কলেজের বাউন্ডারি ডিগ্রি অনার্স প্রভাষকদের পর্যায়ক্রমে এমপিওভূক্ত সহ তার মেয়াদে কলেজটির সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব মানিক গভর্নিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট আদম সুফি জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদ জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবুসহ কলেজটির নবীন এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সাংসদ নওশাদ জমির কলেজ প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপন করেন। এ সময় ফলজ ও বনজ গাছের চারা হিসেবে জলপাই এবং মেহগনী চারা রোপন করেন।
আরটিভি/এমএম




