যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কাবাডি (ছাত্র) ও হ্যান্ডবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশ নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। তবে জাতীয় পর্যায়ের এ আসরে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজেট সংকট, জনবল স্বল্পতা এবং নিয়মিত দল না থাকায় এ দুটি খেলায় অংশগ্রহণ সম্ভব হয়নি।
আয়োজকদের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে কাবাডি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দুই প্রতিযোগিতার কোনো তালিকাতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনের তুলনায় কাবাডি ও হ্যান্ডবলের চর্চা অনেক কম। নিয়মিত অনুশীলন, খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম এবং শক্তিশালী দল গঠনের অভাবে এসব খেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও সীমিত। ফলে জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড় এ.কে.এম. নাতিক জুবায়ের বলেন, কাবাডি ও হ্যান্ডবলে আমাদের কোনো দল নেই। পর্যাপ্ত চর্চা এবং বিভাগভিত্তিক খেলার প্রচলন না থাকায় এ দুটি খেলায় শক্তিশালী দল গড়ে ওঠেনি। কুবি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টগুলো আরও বাড়ানো হোক এবং এসব খেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক। তাহলে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে ভালো ফল করা সম্ভব হবে এবং প্রতিবছর নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি এইচ. এম. পিয়াস বলেন, সাধারণত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খেলায় শক্তিশালী দল থাকে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করানোর। কিন্তু পরে বাজেট স্বল্পতার বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে আমরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে দেখা করে দুই লাখ টাকার একটি বাজেটের ব্যবস্থা করি। সেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা ভলিবল, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। বাজেট স্বল্পতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের অনাগ্রহের কারণেও কাবাডি ও হ্যান্ডবলে দল পাঠানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ক্রীড়া কমিটির পরিচালক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় সব খেলায় অংশগ্রহণ করে না। বাজেট ঘাটতি ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় কিছু খেলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় না। কাবাডি ও হ্যান্ডবলের ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের কোনো নিয়মিত দল নেই। ফলে দল নির্বাচন করে প্রতিযোগিতায় পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর খেলাধুলার জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারিত থাকে। কাবাডি ও হ্যান্ডবলের জন্য আগে থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ ছিল না। যদিও আমাদের বিভাগভিত্তিক হকি খেলা অনুষ্ঠিত হয় না, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হকি দল রয়েছে। আমরা বিভাগভিত্তিক কাবাডি আয়োজন করি না এবং বর্তমান সামর্থ্যের মধ্যে তা করা কঠিন। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে আমাদের এখানে মনিরুল আলম একাই দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল থাকলে কাবাডি ও হ্যান্ডবলের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও অনেক খেলা রয়েছে। এসব খেলার চর্চা ও প্রচলন বাড়ানো গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে পারবে।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, সব আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার প্রধান কারণ বাজেট ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। তবে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরটিভি/এসএস




