হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীকে অভিনব কায়দায় নির্জন স্থানে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে তার সিনিয়র ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কৃষি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুল জানান, এর সূত্রপাত ঘটে ১৪ জুন রাতে, যখন ইসিই ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত তার বাসায় অবস্থান করেন। ওই রাতে আরিফ হাসনাতের দুটি মোবাইল ফোন, ওয়ালেট ও ঘড়ি এবং রাতুলের রিয়েলমি ৯ ফোন চুরি হয়। ঘটনার পর থানায় জিডি করা হলেও আরিফ হাসনাত বাসার শিক্ষার্থীদের সন্দেহ করতে থাকেন।
জানা যায়, কয়েকদিন পর আরিফ হাসনাত তার বন্ধুদের নিয়ে এসে বাসার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখান। অথচ একই ধরনের চুরির ঘটনা এর আগে অনন্যা ভিলা নামক আরেকটি মেসেও ঘটে।
২২ জুন রাতে ফোন উদ্ধারের কথা বলে আরিফ হাসনাত রাতুলকে বাইকে করে থানার বাইরে নিয়ে যান। পরে তাকে ডিভিএম ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের মেফতাউল-ইসলাম মেজবাহ এবং সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে, তারা রাতুলকে বেধড়ক মারধর করে, হত্যার হুমকি দেয় এবং প্রথমে ১০ হাজার টাকা, পরে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর স্থানীয় কিছু যুবকের হাতে তুলে দিয়ে তাকে চোর বলে প্রচার করা হয়। অবশেষে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় যে, ঘটনাটি ক্যাম্পাসে প্রকাশ করা যাবে না।
পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় রাতুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার বুক ও পায়ের এক্সরে করার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগী রাতুল বলেন, অপরাধ যেই করুক সেই অপরাধী। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা যদি বিনা বিচারে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রাপ্য বিচার কোথায়?
প্রক্টর প্রফেসর ড. নওশের ওয়ান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কার্যক্রম অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃত দোষীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে।
অভিযুক্ত ইসিই শিক্ষার্থী আরিফ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ডিভিএম শিক্ষার্থী মেজবাহ ফোন ধরেননি।
আরটিভি/এসএস




