গাজীপুরে নির্মাণের ৩ মাসেই ধসে গেছে ৯ কোটি টাকার সড়ক

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ , ০৭:০৮ পিএম


গাজীপুরে নির্মাণের ৩ মাসেই ধসে গেছে ৯ কোটি টাকার সড়ক
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই হঠাৎ ১ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। ভেঙে যাচ্ছে নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলোও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের ফল এটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার শ্রীপুর উপজেলা থেকে শহরে যাতায়াতে সুফল আনতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের অনুমতি পায়। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ করার কথা থাকলেও মেয়াদ বেড়ে ২০২৬ সালে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসেই সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সূতি নদী এলাকায় চিনাশুকানিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে ধ্বসে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। নদীর তীর বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীনের পথে। এমন পরিস্থিতিতে সড়কের ভাঙা অংশগুলোতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোড়াতালি দিতে দেখা গেছে। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ওই অংশটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

gazipur_PU0hRqT

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম বলেন, মাত্র ৩ মাস হয়েছে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ অংশ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে এখানে চলাচল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার এখানে বস্তা ফেলছে। এতে কী সড়ক রক্ষা হবে?

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণের পরপরই হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিনদিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণ করার আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করে। মাটি বালু ঠিকমতো রোলিং না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষ সঠিক তদারকি করেনি।

আরও পড়ুন

একই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন ঠিকাদারের লোকজন। ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করেননি।

দমদমা গ্রামের আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, এইতো কয়েক মাস হলো সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলো। পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হলেও হঠাৎ করে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। ভালো কাজ হলে এত দ্রুত সড়কটি দেবে যাওয়ার কথা না। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানান, সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকায় সড়ক মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission