গৃহবধূকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১০:১০ পিএম


গৃহবধূকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
ছবি: আরটিভি

আদরের সন্তানকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল ২০ বছর বয়সী গৃহবধূ লাজিনার। কিন্তু যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে কালিয়া উপজেলার পেড়লী গ্রামের মোজাম্মেল মল্লিকের মেয়ে লাজিনার সঙ্গে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন দেখতেন লাজিনা। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি কখনোই সুখের মুখ দেখেননি বলে দাবি পরিবারের।

নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে ধারদেনা করে জামাতা আব্দুর রহমানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবে দুই-তিন মাস পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর ইজিবাইক কেনার অজুহাতে আবারও টাকার দাবি করা হয়। সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও লাজিনার পরিবার আরও এক লাখ টাকা দেয়। কিন্তু এরপরও টাকার দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, টাকার দাবি পূরণ করতে না পারায় ২ জুলাই দুপুরে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে তার মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর স্বামী আব্দুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে যান।

খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission