নড়াইলে টিকটকে করা কমেন্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামের মল্লিক পাড়ার মন্নু মোল্লার ছেলে আশরাফুল এবং উত্তর পাড়ার কবির ফকিরের ছেলে মিজানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে টিকটকে মন্তব্য (কমেন্ট) করা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই ভার্চুয়াল বিরোধ একপর্যায়ে বাস্তবে রূপ নেয়। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
সামান্য এই হাতাহাতির ঘটনা দ্রুতই দুই পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাম্য কোন্দলে রূপ নেয়। আশরাফুল ও মিজানের পক্ষ নিয়ে মল্লিক পাড়া এবং উত্তর পাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উভয় পক্ষই শক্তি প্রদর্শনের জন্য সংঘর্ষের জোর প্রস্তুতি নিতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন রামদা, লাঠিসোঁটা, ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। সংঘর্ষের পর থেকে রতডাঙ্গা গ্রামে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, টিকটকের কমেন্ট নিয়ে দুই যুবকের মধ্যকার ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরটিভি/এসএস




