টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকায় বিশ্রামে থাকা স্বামী-স্ত্রীর উপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে স্ত্রী নাসিমা আক্তার লিমার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মৃত নাসিমার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে ও আহত স্বামী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে এক রাতেই তিনটি পৃথক স্থানে আটজন নিহত হন। সোমবার (৬ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এছাড়া কক্সবাজার শহর, সদর উপজেলার দরিয়ানগর এবং পেকুয়ায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। টানা বর্ষণে এসব এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ক্যাম্পের বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্টি হওয়া মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।
আরটিভি/এমএইচজে




