ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় নবগঠিত ‘বরিশল’ ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইউনিয়নের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১১(১) অনুযায়ী গত ১২ মে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। পরে ৪ জুন বাংলাদেশ গেজেটে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।
নতুন ইউনিয়নটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল, বৈষ্ণবপুর, কোড্ডা, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি ও চান্দি—এই ছয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয়েছে। ইউনিয়নটিতে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর আয়তন প্রায় ১১ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৬৮৪ জন।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮(১) অনুযায়ী গত ৭ জুলাই ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
ফজলুর রহমান ভূঁইয়া আখাউড়া উপজেলার বরিশল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার বাবা।
এ বিষয়ে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করেছেন। প্রশাসক হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব তিনি সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নবগঠিত ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কবীর আহমেদ ভূঁইয়া আরও বলেন, কসবা-আখাউড়া অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলাধুলার অবকাঠামো এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে কসবার তিনলাখপীর বিশ্বরোড এলাকায় একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ এবং পরিকল্পিত উপশহর গঠনের বিষয় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন ইউনিয়ন গঠনের ফলে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় আরও সহজে পৌঁছাবে এবং এলাকার অবকাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
আরটিভি/এমএম




