স্কুলছাত্রীকে দফায় দফায় তুলে নিয়ে ধর্ষণ, অতঃপর

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১৯ পিএম


স্কুলছাত্রীকে দফায় দফায় তুলে নিয়ে ধর্ষণ, অতঃপর
প্রতীকী ছবি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) দফায় দফায় তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে আদিতমারী থানায় অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা। ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে এই মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী কিশোরীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা (৪০) এক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে ২৭ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে তার মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে বাগানেই ফেলে রাখেন। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রী কোনো রকমে বাড়ি ফেরে।

১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে আবার ডেকে নেন মোখলেছার রহমান। পরে তাকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার রহমান। এ সময় স্কুলছাত্রী চিৎকার দিয়ে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা নেয়। সেখানে উপস্থিত লোকজন মোখলেছার রহমানকে মারধর করে ছেড়ে দেন এবং স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে বাড়ির মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ঢাকার গাজীপুর থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পরে অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে মঙ্গলবার রাতে মোখলেছার রহমান ফুলতলা ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান ফুলতলা খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। মামলাটি নষ্ট করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়েছিল। আমি গরিব মানুষ। টাকাপয়সা নেই। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরও পড়ুন

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। বুধবার ভিকটিমকে (স্কুলছাত্রী) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission